shono
Advertisement
Erling Halaand

'ওরা বিশ্বকাপে, আমরা কলকাতা লিগে', হালান্ডের বিরুদ্ধে খেলা বাঙালির সঙ্গী এখন হতাশা

প্রস্তুতির জন্য নরওয়ে সফরে গিয়েছিলেন কোচ নিকোলাই অ্যাডামের ছাত্ররা। সেই দলে ছিলেন ভারতের জার্সিতে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ খেলা বাংলার ফুটবলার অভিজিৎ সরকারও।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 01:32 PM Jul 07, 2026Updated: 04:58 PM Jul 07, 2026

ভারতীয় সময় তখন রবিবার মধ্যরাত। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল আর নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের (Erling Haaland) জোড়া গোলে ভর করে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছে স্ক্যান্ডেনেভিয়ার দেশটি। অবশ্য শুধু ব্রাজিল নয়, অতীতে হালান্ডের নরওয়ের কাছে হার মেনেছিল ভারতও। দশ বছর আগে, নরওয়ের মাটিতে। ২০১৭ অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ভারত। আর সেই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য নরওয়ে সফরে গিয়েছিলেন কোচ নিকোলাই অ্যাডামের ছাত্ররা। সেই দলে ছিলেন ভারতের জার্সিতে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ খেলা বাংলার ফুটবলার অভিজিৎ সরকারও।

Advertisement

নরওয়ে সফরে বিভিন্ন ক্লাবের অনূর্ধ্ব ১৬ দলের বিরুদ্ধে একাধিক প্রস্ততি ম্যাচ খেলে ভারতের যুব দল। আর সফরের শেষ ম্যাচ ছিল নরওয়ের অনূর্ধ্ব ১৬ দলের বিরুদ্ধে। যে দলে খেলতেন আর্লিং হালান্ড। সেই ম্যাচে প্রথম একাদশেই ছিলেন নরওয়ের ফরোয়ার্ড। তখনও অবশ্য তিনি ‘বিশ্বত্রাস’ স্ট্রাইকারে পরিণত হননি। তবে হালান্ডের কথা বিলক্ষণ মনে আছে অভিজিৎ সরকারের। এই বাঙালি মিডফিল্ডার ছিলে নরওয়ে সফরের দলে। খেলেছিলেন সেই ম্যাচে।

“ম্যাচটার কথা মনে আছে। আমাদের এক্সপোজার ট্যুরের শেষ ম্যাচ ছিল। আগের ম্যাচগুলো ওদের দেশের ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম। আর শেষ ম্যাচটা নরওয়ের জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৬ দলের বিরুদ্ধে। হালান্ডও খেলেছিল। ও তখন সেভাবে পরিচিত মুখ ছিল না। বাড়তি নজর দিয়েছিলাম ওর খেলায়, এমনটা নয়”, এক দশক আগের স্মৃতি হাতড়ে অভিজিৎ বলছিলেন, “তবে কিছু বিষয় বুঝেছিলাম। তখনই বেশ বড়সড় চেহারা ছিল। আর সেই চেহারা কীভাবে কাজে লাগাতে হবে, ও ভালোই জানত। হঠাৎ হঠাৎ গতি বাড়িয়ে ঢুকে পড়ছিল বক্সে। সঙ্গে এরিয়াল বলেও ভালো।” ০-২ গোলে ম্যাচটা হেরেছিল ভারত। আর ৫৭ মিনিটে নরওয়ের প্রথম গোলটা এসেছিল হালান্ডের পা থেকেই। শেষদিকে অন্য গোলটি করেন এরিক বোথেইম।

পরবর্তীতে মোলডে এফকে, রেড বুল সালসবার্গ, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মতো ক্লাব ঘুরে বর্তমানে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি-র মুখ হয়ে উঠেছেন হালান্ড। ইংল্যান্ডের ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন ইউরোপিয়ান ট্রেবল। ব্যক্তিগত সংগ্রহে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড তারকা হওয়ার পর ২০১৬-র সাক্ষাতের কথা মনে পড়েছে অভিজিতের। সঙ্গে বেড়েছে আক্ষেপও। বর্তমানে কোল ইন্ডিয়ার জার্সিতে কলকাতা লিগ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই ‘বিশ্বকাপার’। তার মাঝেই বলছিলেন অভিজিৎ, “নরওয়ে সফরে আমাদের পারফরম্যান্স কিন্তু বেশ ভালো ছিল। একটা ম্যাচে সাত গোলও দিয়েছিলাম। এমনকী ওদের জাতীয় দলের সঙ্গে ম্যাচটায় আমরা সুযোগ নষ্ট করে ভুগেছি। দু’টো গোলই খেয়েছিলাম ৫৪ মিনিটে সঞ্জীব স্ট্যালিন লাল কার্ড দেখে আমরা দশ জন হয়ে যাওয়ার পর। সেখান থেকে হালান্ডরা এখন বিশ্বকাপ খেলছে। আর আমরা কলকাতা লিগ।” অভিজিতের দীর্ঘশ্বাস সারাংশ লিখে দেয় ভারতীয় ফুটবলের প্রতিচ্ছবি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement