গুয়াদালাহারায় বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) জন্য বেস ক্যাম্প করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নামার আগে রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করছিলেন সেদেশের ফুটবলাররা। হঠাৎই বিপত্তি। কারণ পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রস্তুতি শিবিরের কাছে ড্রোনের দেখা পাওয়া গেল। যা গুলি করে নামাল মেক্সিকো সেনা। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বিশ্বকাপ বানচালের ছক কষা হয়েছে?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রযুক্তিতে ধরা পড়ে ওই ড্রোন। তারপরেই গুলি করে নামানো হয়। কীভাবে ওই ড্রোনের আগমন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত চলছে। যদিও ওই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার অনুশীলনে প্রভাব ফেলেনি। এ কথা জানিয়েছেন স্বয়ং কোরীয় কোচ হং মিয়ং-বো। তিনি বলেন, "গতকাল আমাদের অনুশীলনের সময় আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। আমরা বিষয়টি জানতে পারি। সৌভাগ্যবশত, আমাদের অনুশীলন তখনও শুরু হয়নি। তবে আমাদের শিবিরের গোপন কথা জানার জন্য ড্রোন পাঠানো হয়েছিল কি না জানা নেই। তবে এই ঘটনা আমাদের অনুশীলনে তেমন কোনও প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু আমরা যখন ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন এমন ঘটনা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।"
তাহলে কি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য এই ড্রোন পাঠানো হয়েছিল? উঠছে সেই প্রশ্নও। এর নেপথ্যে নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভ্যাঙ্কুভার, টরন্টোর বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম-সহ বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি শিবিরের মাঠের উপর অননুমোদিত ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ করেছে কানাডা সরকার। এই বিধিনিষেধ ৭ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর। এ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ২০২৪ সালের এক বিতর্ক। প্যারিস অলিম্পিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে নিউজিল্যান্ড দলের অনুশীলনে ড্রোন ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত হয় কানাডার মহিলা ফুটবল দল। ওই কেলেঙ্কারির জেরে দুই কোচিং স্টাফ ও হেডকোচ বেভ প্রিস্টম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। গ্রুপ পর্বে ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয় কানাডার মহিলা দলের।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ী হয়েছে মেক্সিকো এবং দক্ষিণ কোরিয়া দুই দলই। তারা হারিয়েছে যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক রিপাবলিককে। শুক্রবারের ম্যাচ দুই দলের কাছেই গ্রুপ শীর্ষে ওঠার লড়াই। তার আগে ড্রোন নিয়ে উদ্বেগ ছড়াল বিশ্বকাপে। এখন দেখার, এই ঘটবায় মেক্সিকোয় কেউ গ্রেপ্তার হয় কি না।
