বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে মুখোমুখি স্পেন-আর্জেন্টিনা (Spain vs Argentina)। দুই মহাশক্তিধর দেশের লড়াইয়ে অবশ্যই নজরে মেসি বনাম ইয়ামাল। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য লিওনেল মেসি। গোল, পাস, অ্যাসিস্ট, পরিশ্রম সব দিকেই একক যোদ্ধা। অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে 'ঈশ্বরের বরপুত্র' লামিনে ইয়ামাল। গতি-স্কিলে অনবদ্য। ফটোশুটের রোমান্স ভুলে সম্মুখ সমরে। কিন্তু শুধু তাঁরা নন। ম্যাচের ফল নির্ধারিত হতে পারে অন্য লড়াইয়েও।
মিকেল ওয়ারজাবাল বনাম লাউতারো মার্টিনেজ: স্প্যানিশ আক্রমণের 'নিস্তব্ধ ঘাতক'। বিশ্বকাপে পাঁচটা গোলের পাশাপাশি একটা অ্যাসিস্ট করে ফেলেছেন ওয়ারজাবাল। সেখানে শুরুতে ফর্মে না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করেছেন লাউতারো। হেডিং ভালো। জায়গা করে নিতে জানেন। সেমিফাইনালে চার দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের মধ্যে গোল করেছেন।
পাউ কুবারসি বনাম ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো: স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের বয়স মাত্র ১৯ বছর। পাসিং অসম্ভব ভালো। আগেভাগে বিপদ বুঝতে পারেন। যে কারণে স্পেন এবার বিশ্বকাপে একটি গোল হজম করেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা রক্ষণের স্তম্ভ রোমেরো। হেডে ক্লিয়ারেন্স দারুণ। কড়া ট্যাকলে অভ্যস্ত। শারীরিক শক্তি কাজে লাগান।
রড্রি বনাম এনজো ফার্নান্দেজ: স্পেন মিডফিল্ডের 'অক্টোপাস' রড্রি। সব জায়গায় উপস্থিত। মাঝমাঠে একচ্ছত্র রাজত্ব। ৬৪৮টি সঠিক পাস দিয়েছেন। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। তবে এনজোও প্রচণ্ড পরিশ্রমী। পায়ে দূরপাল্লার শট আছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করেন।
দানি ওলমো বনাম লিয়ান্দ্রো পারেদেস: এখন পর্যন্ত পুরো বিশ্বকাপে দানি ওলমো অসাধারণ খেলেছেন। ফ্রি স্পেস বা ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিতে পারেন। ডিস্ট্রিবিউশন বা বল সরবরাহ অসাধারণ। অন্যদিকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস আর্জেন্টিনা মাঝমাঠের স্তম্ভ। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য।
দে লা ফুয়েন্তে বনাম স্কালোনি: গুরু বনাম শিষ্যের লড়াই। আট বছর আগে ফুয়েন্তের অধীনে উয়েফা প্রো লাইসেন্স করেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। প্রথাগত তিকিতাকা থেকে সরে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাচ্ছেন স্প্যানিশ কোচ। দু'টো উইং ব্যবহার করান। লং বলও খেলান। প্রয়োজনে ফর্মেশন বদলান। স্কালোনি অনেক বেশি ভরসা করেন ম্যান ম্যানেজমেন্টে। চাপ নিতে জানেন। দলকেও সেভাবেই উদ্ধুদ্ধ করেন। ম্যাচ রিডিং খুব ভালো। ঠিক সময়ে ফুটবলার বদল করেন।
