বিশ্বের অন্যতম দামি ফুটবলার লিওনেল মেসি। বলা ভালো তিনি বিশ্বের সবচেয়ে মহার্ঘ ক্রীড়াবিদও। শুনলে অবাক হবেন, তাঁর বাঁ পা বিমার আওতায় রয়েছে। সেই অঙ্কটা শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। একজন ‘বিলিয়ন ডলার অ্যাসেট’ হিসাবে এই বিমা করা হয়েছিল।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে সূত্রে জানা গিয়েছে, মেসির বাঁ পায়ের বিমামূল্য প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ প্রায় ৮৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ক্রীড়াজগতে কোনও শরীরের অঙ্গের জন্য করা এটিই সবচেয়ে মূল্যবান বিমা। মেসির বর্ণময় কেরিয়ারই এই বিপুল বিমার মূল কারণ। বার্সেলোনা, পিএসজি, ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনার হয়ে অসংখ্য গোল, ফ্রি-কিক ও অ্যাসিস্ট এসেছে তাঁর বাঁ পা থেকেই। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা ৯০০-রও বেশি গোল করেছেন, যার অধিকাংশই তাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে।
মেসির এত বড় অঙ্কের বিমার নেপথ্যে বিশেষ আর্থিক পরিকল্পনা। তবে এই বিমা শুধু তাঁর পায়ের জন্য নয়। বিশ্বের বড় বড় ক্লাব তাদের খেলোয়াড়দের জন্য স্পোর্টস ডিসেবিলিটি ইন্স্যুরেন্স করিয়ে রাখে। এর মাধ্যমে এমন কোনও গুরুতর চোট পেলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, যা একজন খেলোয়াড়ের কেরিয়ার শেষ করে দিতে পারে বা ভবিষ্যতের আয় কমিয়ে দিতে পারে। মেসির ক্ষেত্রে এই বিমার পরিমাণ ঠিক করা হয় তাঁর বেতন, স্পনসরশিপ এবং ইমেজ রাইটস থেকে মোট সম্ভাব্য আয়ের ভিত্তিতে। তাই বিমা সংস্থাগুলিকে বিপুল অঙ্কের দায়িত্ব নিতে হয়।
তবে এই বিমা সব সময় কার্যকর থাকে না। শর্ত অনুযায়ী, মেসি যদি ক্লাব বা জাতীয় দলের অফিসিয়াল ম্যাচের বাইরে অন্য কোনও প্রতিযোগিতায় খেলেন এবং সেখানে চোট পান, তাহলে সেই 'ক্ষতি'র জন্য বিমার সুবিধা পাবেন না। এ প্রসঙ্গে আরেক কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের উদাহরণও সামনে আসে। তাঁর চুক্তিতে ‘লাভ অফ দ্য গেম’ নামে একটি বিশেষ শর্ত ছিল। এর ফলে তিনি ক্লাবের অনুমতি ছাড়াই যে কোনও জায়গায়, যে কারও সঙ্গে বাস্কেটবল খেলতে পারতেন। এমনকী সেই খেলায় চোট পেলেও, শিকাগো বুলস তাঁকে পুরো বেতন দিত।
