বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষ। ৩২টি দল এবার নকআউটে মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বে বড়সড় কোনও অঘটন ঘটেনি। রীতি মেনেই লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ডরা আগুনে ফর্মে। আবার স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কেপ ভার্দের ভোজিনহার মতো গোলকিপারের পারফরম্যান্স। কেমন হতে পারে ৪৮টি দেশের মধ্যে থেকে গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশ? খুঁজে দেখল সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন।
কোচ: ডাগআউটে বসবেন কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লরেঞ্জো। কাতার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে না পেরে কলম্বিয়ার ফুটবল কর্তারা জাতীয় দলের দায়িত্ব দেন। গ্রুপে অপরাজিত কলম্বিয়া। আটকে দিয়েছেন পর্তুগালকে। যোগ্যতা অর্জন পর্বেও কলম্বিয়ার ডিফেন্স আঁটসাঁট ছিল। এরকম দল হাতে পেলে নেস্তরের সোনালি সফর বহু দূর চলবে। খেলাবেন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে।
কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লরেঞ্জো
গোলকিপার
ভোজিনহা (কেপ ভার্দে): বিশ্বকাপে চমক থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চমকের নাম কেপ ভার্দে ও ভোজিনহা। সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশ প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেই নকআউটে। যার নেপথ্যে ৪০ বছর বয়সি গোলকিপারের হাত। স্পেনের বিরুদ্ধে ৯টা সেভ। এরপর উরুগুয়ে-সৌদি আরবকে আটকে রাউন্ড অফ ৩২-এ। সেখানে সামনে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা।
ডিফেন্স
ড্যানিয়েল মুনোজ (কলম্বিয়া): ঝড়ের গতিতে বিপক্ষের বক্সে হানা দেন। কলম্বিয়ান রাইট ব্যাক উজবেকিস্তানের পর ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধেও গোল করেছেন। আবার নেমে এসে কলম্বিয়াকে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকতে সাহায্য করেছেন।
পাউ কুবারসি (স্পেন): বয়স মাত্র ১৯। এখনও স্পেনের স্টপারকে টপকে কোনও দল গোল করতে পারেনি। পাসিং অসাধারণ। গতি আছে। বিপক্ষ স্ট্রাইকারদের আক্রমণের সামনে মাথা ঠান্ডা রাখেন।
জন-পল ভ্যান হেকে (নেদারল্যান্ডস): দীর্ঘদেহী ফুল ব্যাককে শক্তিতে পরাস্ত করা বেশ কঠিন। সতীর্থ ভ্যান ডাইককে মাঝেমধ্যে নিষ্প্রভ দেখালেও ভ্যান হেকে অবিচল। আবার তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে গোলও করেছেন।
মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন): স্প্যানিশ সাইড ব্যাক গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচের সব কটাই খেলেছেন। ৯২ শতাংশ পাসিং রেট। ওভারল্যাপে উঠে দলকে সাহায্য করেছেন। প্রতি ম্যাচে বিপক্ষের বক্সেও অন্তত ৬টি পাস খেলেছেন।
জুড বেলিংহ্যাম
মিডফিল্ডার
জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): গোটা মাঠ জুড়ে খেলেছেন। ২টো গোলের পাশাপাশি ২২ বছর বয়সি মিডফিল্ডার একটি অ্যাসিস্টও করে ফেলেছেন ৩ ম্যাচে। ১৯৬৬-র পর ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের নজির আছে। আর সেবার বিশ্বজয়ী হয়েছিল ইংরেজরাই।
ব্রুনো গিমারেস (ব্রাজিল): গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট (৩) করেছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। গোটা মাঠ জুড়ে খেলেন। অথচ নামের পাশে কোনও কার্ড নেই। আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করেন।
আক্রমণ:
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): নতুন করে কারণ দেওয়ার দরকার নেই। ৩ ম্যাচে ৬ গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৩৯ বছর বয়সেও অপ্রতিরোধ্য। তাও জর্ডনের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে খেলেননি। ডানদিকের উইং থেকে সরে এসে মাঝমাঠে খেলছেন। তাই 'নম্বর ১০' বা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের দায়িত্ব আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তির উপরই থাকবে।
লিওনেল মেসি
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স): ৪ গোল করে ফরাসি তারকাও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে। ফ্রান্স দলে খাতায়-কলমে স্ট্রাইকার হিসেবে নামানো হলেও উইংয়ে সরে আসেন। দু'টো পা'ই সচল। তাই ডানদিকের উইংয়ে রাখা হল। প্রয়োজনে আরেক স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে ডবল স্ট্রাইকারে খেলানো যেতে পারে। সেখানে মেসি ও ভিনি দুই উইংয়ে সরে যাবেন।
ভিনিসিয়াস জুনিয়র (ব্রাজিল): প্রতিদিন নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করছেন ভিনি। ৩ ম্যাচে ৪টি গোল। একটি অ্যাসিস্ট। তাঁকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে ব্রাজিলে 'ভালো' স্ট্রাইকার নেই। চোটের জন্য আরেক উইংয়ে রাফিনহা নেই। কিন্তু গতিতে-স্কিলে-লড়াকু মানসিকতায় ভিনি একাই একশো। যে কারণে দেম্বেলেকেও এই দলে বদলি হিসেবে আসতে হবে।
ভিনিসিয়াস জুনিয়র
আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে): ২ ম্যাচে ৪ গোল। একটি ম্যাচে তাঁকে খেলানোই হয়নি। খাঁটি বক্স স্ট্রাইকার। যে কোনও জায়গা থেকে গোল করতে জানেন। হেড খুব ভালো। শারীরিক শক্তিতে একাধিক ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিতে পারেন। জার্মানির ডেনিজ উন্ডাভ বদলি হিসেবেই তিনটে গোল ও দু'টো গোল করেছেন। তিনি বেঞ্চেই থাকবেন। এছাড়া রিজার্ভে থাকবেন হ্যারি কেন।
রিজার্ভ বেঞ্চ: অ্যালিসন বেকার (গোলকিপার/ব্রাজিল), হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড), উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স), আশরাফ হাকিমি (মরক্কো), দায়োত উপামেকানো (ফ্রান্স), ডেনিজ উন্ডাভ (জার্মানি)
