দুরন্ত খেলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে লড়াকু পারফরম্যান্সের পর মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়া উচিত জাপানের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উলটো ছবি। রাউন্ড অফ ৩২ ম্যাচ শেষ হতেই মাঠে এলেন জাপানের ফুটবলার-হেড কোচ। নতমস্তক হলেন দলের প্রত্যেকটি সদস্য। কেন? কারণ মাঠে ভিড় জমানো জাপান সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেননি। ম্যাচ জিততে পারেননি। তাই 'ক্ষমা চাইলেন' কাইসু সানোরা।
জাপানের সংস্কৃতি নিয়ে ফুটবলমহলে সবসময়েই চর্চা হয়। ফুটবল ম্যাচের পর জাপানের ভক্তরা স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে তবে মাঠ ছাড়েন। বিশ্বকাপেও তার অন্যথা হয়নি। কিন্তু ম্যাচ হারের পর নতমস্তকে ক্ষমাপ্রার্থনা? এমন দৃশ্য বিরল। সোমবার গভীর রাত জেগে প্রিয় দলের ম্যাচ দেখছিলেন জাপান সমর্থকরা। বহু দূর পাড়ি দিয়ে স্টেডিয়ামেও জাপান ভক্তরা ভিড় জমিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের জয় উপহার দিতে পারেননি হাজিমে মোরিয়াসুর ছাত্ররা। ব্রাজিলের কাছে ২-১ হেরে যায় জাপান।
হারের পর স্বভাবতই ভেঙে পড়ে জাপানের গোটা দল। কিন্তু তারমধ্যেও সকলে মাঠের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ান। কোচের নেতৃত্বে এগিয়ে যায় গোটা দল। গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে খানিকটা ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে মাথা ঝুঁকিয়ে ফেলেন সকলে। নতমস্তক হন কোচ হাজিমেও। তবে এই আচরণ সম্ভবত সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতেই। এমন বিনম্র আচরণ ছুঁয়ে ফেলে জাপানের ভক্তদেরও। ফুটবলারদের অনবদ্য পারফরম্যান্সকে হাততালি দিয়ে সম্মানিত করেন তাঁরা। এমন টুকরো টুকরো মুহূর্তের ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। সৌহার্দ্যের সুন্দর নজির গড়লেন ব্রাজিলের গোলকিপার অ্যালিসনও। ভেঙে পড়া জাপানের ফুটবলারদের বুকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।
উল্লেখ্য, জাপানে ফুটবলের অগ্রগতির নেপথ্যে বিরাট অবদান ব্রাজিলের। সেই গুরুই যখন মরণ-বাঁচন লড়াইয়ের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে, তখন সমীকরণটাই এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্থে খোদ জাপানই ভিনি জুনিয়রদের খেলাটাকে এলোমেলো করে দিল। ২৯ মিনিটে অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়ে দুনিয়াকে যেন সানো বার্তা দিলেন, হাম ভি কিসিসে কম নহি! তবে জাপানি বোমাকে শক্ত হাতে ব্রাজিল সামাল দিল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ৫৬ মিনিটে ক্যাসেমিরোর নিখুঁত হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর ইনজুরি টাইমের শেষ লগ্নে গোটা স্টেডিয়াম যখন ধরেই নিয়েছে ম্যাচ গড়াবে এক্সট্রা টাইম, ঠিক তখন এল ব্রাজিলের জয়সূচক গোল।
