গত দু'বারের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফাইনালিস্ট, একবার চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু সেই ফ্রান্সকেই গত দুই বছর ধরে নাকানিচোবানি খাইয়েছে স্পেন। ইউরো, নেশনস কাপে স্প্যানিশ আর্মাডার কাছে পরাস্ত হয়েছে ফরাসি ব্রিগেড। সেই পরিসংখ্যানের কথা মনে রেখেই স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল সটান হুমকি দিয়েছেন, ফ্রান্সকে দেখে নেবেন। তিনি যে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের গলগ্রহ হয়ে উঠেছেন, সেই পরিসংখ্যানও রয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে।
স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদে খেলেন ইয়ামাল এবং এমবাপে। ২০২৩ সালে বার্সার জার্সিতে প্রথমবার খেলতে নামেন তরুণ তুর্কি ইয়ামাল। তারও বছরখানেক পরে রিয়ালে যাত্রা শুরু এমবাপের। গত দুই বছরে এই দুই তারকার যুযুধান গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। দুই মহাতারকার দ্বৈরথের পরিসংখ্যান বলছে, নকআউট পর্ব এলেই ইয়ামালের কাছে পরাভূত হন এমবাপে! টানা পাঁচ নকআউট ম্যাচে ছবিটা একই রয়েছে।
প্রথমে দুই তারকার দ্বৈরথ ২০২৪ ইউরো সেমিফাইনালে। দুই দলকেই ট্রফি জয়ের দাবিদার হিসাবে ধরেছিলেন ফুটবলবোদ্ধারা। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স। সমতা ফেরান ইয়ামাল। শেষ হাসি হাসে স্প্যানিশ আর্মাডাই। তারপর ২০২৫ নেশনস লিগ সেমিফাইনাল। স্পেন বনাম ফ্রান্স ম্যাচে মোট ৯ গোল হয়েছিল। প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। বিরতির পর ইয়ামালের জোড়া গোল। সবমিলিয়ে পাঁচ গোল দেয় স্পেন। বিরতির পর সবমিলিয়ে চারটি গোল করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত হারতে হয় ফ্রান্সকে।
ক্লাবের জার্সিতেও নকআউট ম্যাচ মানেই ইয়ামালের জয় এবং এমবাপের হার। ২০২৫ সুপার কোপা ফাইনালের প্রথম গোল আসে এমবাপের শট থেকে। সমতা ফেরান ইয়ামাল, শেষ পর্যন্ত ৫ গোল দেয় বার্সা। ম্যাচের ফল ৫-২। সেবছরই কোপা দেল রে'তেও হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ। অতিরক্ত সময়ে গিয়ে বার্সা ৩-২ জেতে। চলতি বছর সুপার কোপা ফাইনালেও ৩-২ জয়ী বার্সা। নকআউটের এই যন্ত্রণার পরিসংখ্যান কি এবার পালটাতে পারবেন এমবাপে? নাকি আবারও শেষ হাসবেন ইয়ামালই? ফরাসি ব্রিগেডকে অবশ্য আশা জোগাচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাস। এর আগে ফিফা বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছে স্পেন-ফ্রান্স। ওই ম্যাচ ৩-১ জিতেছিল জিনেদিন জিদানের দল।
