কড়া ট্যাকল করে বিপক্ষ ফুটবলারের হাঁটু ভেঙে দিয়েছিলেন। এবার সেই অপরাধে বিরাট শাস্তি পেলেন কাতারের ডিফেন্ডার আসিম মাদিবো। গত বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা এবং কাতার। ওই ম্যাচে ৬ গোল দেয় আয়োজক দেশ কানাডা। কিন্তু ম্যাচের মধ্যেই বিশ্রী ট্যাকলের শিকার হন ইসমায়েল কোনে। সেই ঘটনায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল ফিফা।
ম্যাচের ৫২ মিনিটের মাথায় কানাডার মিডফিল্ডারকে পিছন থেকে কড়া ট্যাকল করেন মাদিবো। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে লুটিয়ে পড়েন ইসমায়েল। ছুটে আসেন সতীর্থরা। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন কানাডার মিডফিল্ডার। মাঠে ছুটে আসেন ফিজিওরা। মাঠেই কিছুক্ষণ শুশ্রূষা চলে তাঁর। স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। তখনই চোখে পড়ে, ইসমায়েলের বাঁ-পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে ঝুলতে দেখা যায়। ইসমায়েলের চোটের অবস্থা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কানাডা কোচ জেসি মার্শ। মাঠ থেকেই কানাডার তারকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আয়োজক দেশের তারকার এহেন দশায় কঠোর পদক্ষেপ করল ফিফা। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। কড়া ট্যাকলের পরেই মাদিবোকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফিফার কমিটি জানিয়েছে, এই আচরণ 'সিরিয়াস ফাউল প্লে'। সেই অপরাধে পাঁচ ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে মাদিবোকে। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কাতার অবশ্য আবেদন করতে পারে। তবে ট্যাকল করার দরুণ এত গুরুতর শাস্তির নজির বিশ্বফুটবলে সেভাবে নেই। শাস্তি নিয়ে কাতারের তরফ থেকেও কিছু বলা হয়নি এখনও।
মাঠ থেকে বেরনোর পরই ইসমায়েলের পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর বাঁ পায়ের তিবিয়া এবং ফিবুলা হাড় দু'টি ভেঙেছে। পায়ের নিচের অংশের এই হাড়দু'টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত কয়েকমাস সময় লাগবে ইসমায়েলের সেরে উঠতে। তবে ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। কড়া ট্যাকলের পর কাতারের ফুটবলাররাও ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন ইসমায়েলের কাছে।
