১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেছিল মিশর। এরপর চারবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এতদিন জয়ের মুখ দেখেনি উত্তর আফ্রিকার দেশটি। ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মহম্মদ সালাহ, ওমর মারমুশদের দল বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ উঠেছে। তাদের সামনে এবার অস্ট্রেলিয়া। মেগা ম্যাচের আগে উত্তেজনায় ফুটছে সমর্থকরা। তেমনই এক খুদে সমর্থক। তার মুখে ছিল প্রিয় ফুটবলারদের সঙ্গে ছবি তোলার আনন্দ। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনার দৃশ্যান্তর। তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
ঠিক কী হয়েছিল? ডালাসে মিশরের হোটেলের সামনে ঘটনাটি ঘটে। মিশরীয় তারকা ত্রেজেগের সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিল এক খুদে সমর্থক। কিন্তু ছবি তোলার সময় বিপত্তি। পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল বচসা। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা যায়, প্রথমে ছবি তোলা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। যদিও পরিস্থিতি শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্প্যানিশ এবং আর্জেন্টিনীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশের আচরণে রেগে কাঁই হয়ে যান মিশরের কোচ হোসাম হাসানের ভাই ও কোচিং স্টাফের সদস্য ইব্রাহিম হাসান। তাঁরা পুলিশ কর্তাদের আচরণের প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এমনকী পরবর্তীতে মিশরের হেডকোচ হোসাম হাসানও ঘটনাস্থলে এসে জড়িয়ে পড়েন। ভাইরাল ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গেও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীর হাতাহাতি পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ভয়েস অফ এমিরেটস-এর তথ্য অনুযায়ী, মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সংঘর্ষের খবর অস্বীকার করেছে। ঘটনাটিকে 'ছোটখাট বচসা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, দ্রুতই বিতর্কের নিষ্পত্তি ঘটে। ফেডারেশন আরও জানিয়েছে যে, টিম হোটেলের সামনে সংকট তৈরি হয়েছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্লেখ্য, গত ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মিশরের অধিনায়ক মহম্মদ সালাহ। ৫৭ মিনিটে তাঁকে তুলে নেন কোচ। পরিবর্তে মাঠে নামেন মোস্তাফা জিকো। এরপর খেলা চলাকালীন ক্যামেরায় বারবার তাঁর হতাশার অঙ্গভঙ্গি ধরা পড়ে। প্রশ্ন হল, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কি তিনি মাঠে নামবেন? দলের আশা, হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ভুগলেও নকআউটে মাঠে নামবেন 'মিশরীয় মেসি'।
