একজনের শুরু, একজনের সারা। রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালকে ফুটবলবিশ্ব দেখছে দুই প্রজন্মের লড়াই হিসাবে। একদিকে সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ লামিন ইয়ামালের। স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা হাইভোল্টেজ ফাইনালের আগে উঠে আসছে দুই দলের নানা পরিসংখ্যান। দেখা যাচ্ছে, শেষবার যখন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল তখন হাফডজন গোল হজম করে লা আলবিসলেস্তে।
গোটা বিশ্বকাপজুড়ে অভিযোগ উঠেছে, অহেতুক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডন। তিনটি ম্যাচেই হাসতে হাসতে জিতে যান মেসিরা। তবে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই গতবারের চ্যাম্পিয়নদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। স্বপ্নের পারফরম্যান্স করা কেপ ভার্দে ম্যাচ টেনে নিয়ে যায় একস্ট্রা টাইম পর্যন্ত। ৩-২ ফলে কোনওমতে জেতে আর্জেন্টিনা। তারপর প্রি কোয়ার্টার এবং কোয়ার্টার-যথাক্রমে মিশর এবং সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একরাশ বিতর্ক ঘাড়ে নিয়ে ম্যাচ জেতে আর্জেন্টিনা। তবে সেমিফাইনালে একেবারে চ্যাম্পিয়নের মেজাজে খেলে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দেন লতারো মার্টিনেজরা।
স্পেনের বিশ্বকাপযাত্রাকে এককথায় বলা যেতে পারে উন্নতির সফর। অখ্যাত কেপ ভার্দের কাছে প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছিলেন রড্রিরা। তারপর সৌদি আরব এবং উরুগুয়ের বিরুদ্ধে 'ঘুমন্ত' ফুটবল। কিন্তু প্রত্যেক ম্যাচেই তুলনামূলকভাবে ভালো ফুটবল খেলেছে স্পেন। রাউন্ড অফ ৩২ তে অস্ট্রিয়াকে হারানোর পর প্রি কোয়ার্টারে হেভিওয়েট প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। সুপার সাব মিকেল মেরিনোর ম্যাজিকে জিতে গেল স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধেও ছবিটা একইরকম। সেমিতে প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্স, যারা কিনা টানা দু'বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপেদের একেবারে বোতলবন্দি করে ফেলেন আমেরিক লাপোর্তোরা।
বিশ্বকাপে এর আগে একমাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছে স্পেন-আর্জেন্টিনা, ৬০ বছর আগে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ২-১ জেতে লাতিন আমেরিকার দেশটি। সবমিলিয়ে ১৪ বার দুই দলের দেখা হয়েছে, ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দলই। ২০১৮ সালে শেষবার খেলা হয় স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ, ৬-১ গোলে দলের হার দেখেছিলেন মেসি। সেই হারের বদলা কি বিশ্বকাপ ফাইনালে নেবেন? নাকি ৬০ বছর আগে হারের প্রতিশোধ ট্রফি জিতে নেবে স্প্যানিশ আর্মাডা?
