দুই প্রজন্মের লড়াই। বিশ্বকাপে স্পেন বনাম পর্তুগালের হাইভোল্টেজ ম্যাচকে এইভাবেই দেখছে ফুটবলমহল। কারণ এই ম্যাচেই মুখোমুখি হবেন শেষবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া লামিনে ইয়ামাল। দুই যুগ মিশে যাবে এই ম্যাচে। তার আগে থেকেই চর্চা ছিল, বিশ্বকাপের আইবেরিয়ান ডার্বিতে এগিয়ে কারা?
ইউরোপ মহাদেশের একেবারে দক্ষিণ পশ্চিমে রয়েছে আইবেরিয়ান উপদ্বীপ। সেখানেই পাশাপাশি দুই দেশ স্পেন এবং পর্তুগাল। আইবেরিয়ান ডার্বি নামে পরিচিত দুই দেশের দ্বৈরথ। ইতিহাস বলছে, অতীতে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে স্পেন এবং পর্তুগাল। আসলে দীর্ঘ ৬০ বছর স্পেনের দখলে ছিল গোটা পর্তুগাল। প্রায় ২৮ বছর ধরে স্বাধীনতা সংগ্রামের পর রোনাল্ডোর দেশ স্বাধীন হয়। তারপর বারদুয়েক দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। তবে আপাতত রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তারা 'বন্ধু'। সেরকম শত্রুতা নেই।
কিন্তু ফুটবলে প্রতিবেশীদের মধ্যে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। তার মধ্যে ১৭বার জয়ী স্পেন। পর্তুগাল জিতেছে ৬টি ম্যাচে। ১৯২১ সালে প্রথমবার দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল। তবে বিশ্বকাপে তাদের প্রথম দ্বৈরথ হয় ২০১০ সালে। যদিও যোগ্যতা অর্জন পর্বে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেছে ইয়ামাল-রোনাল্ডোদের দেশ। ১৯৩৪ সালের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ৯-০ জিতেছিল স্পেন।
বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত দু'বার স্পেন বনাম পর্তুগাল দ্বৈরথ দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। ২০১০ সালে প্রি কোয়ার্টারে মুখোমুখি হয় দুই দল। ৬৩ মিনিটে দাভিদ ভিয়ার গোলে নিশ্চিত হয়ে যায় রোনাল্ডোর বিদায়। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। তারপর ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি দুই দল। ৪ মিনিটে রোনাল্ডোর পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তাতেও অবশ্য জিততে পারেনি পর্তুগাল। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে গোল করে দলের হার বাঁচান সিআর সেভেন। তাঁর হ্যাটট্রিকেও জয় অধরা ছিল। শেষ বিশ্বকাপে এসে কি স্পেনের বিরুদ্ধে একটা জয় পাবেন রোনাল্ডো? নাকি স্প্যানিশ আর্মাডায় বিদ্ধ হয়ে শেষ হবে তাঁর বিশ্বকাপ সফর?
