বেলজিয়াম বনাম স্পেন ম্যাচের বয়স তখন ৮৮ মিনিট। ফলাফল ১-১। সবাই ধরেই নিয়েছিল, ম্যাচ গড়াচ্ছে অতিরিক্ত সময়ের দিকে। সেই সময় বেলজিয়াম গোলকিপারের ভুল থেকে গোল করে যান মিকেল মেরিনো। ওই গোলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত স্পেনের। তারপর কর্নার ফ্ল্যাগের চারদিকে ঘুরে সেলিব্রেশন। এ জিনিস নতুন নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে বাবা-ছেলের গল্প।
স্পেনের হয়ে প্রায় প্রতি ম্যাচে বদলি হিসেবে নামেন মেরিনো। আর প্রায় প্রতি ম্যাচেই 'সুপার সাব' হিসেবে গোল করাটা অভ্যাস করে ফেলেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ৯১ মিনিটে গোল। এবার বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে। স্পেনের পাউ কুবারসির জোরালো শট ঠিকভাবে সেভ করতে পারেননি বেলজিয়ামের বদলি গোলকিপার সিন লেমেন্স। শিকারী বিড়ালের মতো ওৎ পেতে ছিলেন মেরিনো। সঙ্গে সঙ্গে জালে বল জড়িয়ে দেন আর্সেনালের মিডফিল্ডার।
তারপর কর্নার ফ্ল্যাগের চারদিকে ঘুরে সেলিব্রেশন। কেন? তার উত্তর পেতে ফিরে যেতে হবে ৩৫ বছর আগে। মেরিনোর বাবা অ্যাঞ্জেল মিগুয়েল ফুটবলার ছিলেন। স্পেনের ক্লাব ওসাসুনার হয়ে খেলেছেন, পরে কোচও ছিলেন। ১৯৯১ সালে স্পেনের হয়ে গোল করেছিলেন অ্যাঞ্জেল। তারপর এভাবে উদযাপন করেন। বাবার সেই সেলিব্রেশনকে মাথায় রেখে প্রতি ম্যাচে গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগের চারপাশে ঘুরেই মেরিনোর আইকনিক সেলিব্রেশন।
৩০ বছর বয়সি মিডফিল্ডারের সঙ্গে জড়িয়ে ভারতের এক কোচের নামও। তিনি কিবু ভিকুনা। মোহনবাগানের প্রাক্তন কোচ যখন স্পেনের ক্লাব সিএ ওসাসুনার সহকারী কোচ, তখন সিনিয়র দলে ডাক পেয়েছিলেন মেরিনো। বছর দশেক আগে মেরিনোকে তুলে আনার ক্ষেত্রে অনেকটাই ভূমিকা রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে ইউরো বা বিশ্বকাপ, গোল করা অভ্যাস করে ফেলেছেন মেরিনো।
