আমেরিকা: ২ (বালোগন, টিলম্যান)
বসনিয়া ও হারজেগোভিনা: ০
কাপ যেন গাঁয়ের বাইরে না যায়...! ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে আমেরিকা যেন সেই শপথ নিয়েই মাঠে নেমেছে। অন্যরকম দেখাচ্ছে এই আমেরিকাকে। ছন্দবন্ধ টিম, দুর্দান্ত পাসিং ফুটবল। শেষ কবে আমেরিকার এত ভালো ফুটবল খেলেছে মনে করাই দুষ্কর। বৃহস্পতিবার ভোরে ম্যাচের প্রায় আধ ঘণ্টা ১০ জনে খেলেও ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ বসনিয়াকে স্রেফ পাত্তাই দিল না মরিসিও পোচোত্তিনোর দল। বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের খাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন পুলিসিচ, ম্যাককিনিরা।
চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে যে ফুটবলটা আমেরিকা খেলেছে, তাতে বসনিয়ার বিরুদ্ধে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ফেভারিট হিসাবেই শুরু করেছিলেন পুলিসিচ, বালোগনরা। প্রথমার্ধে একপ্রকার অনায়াসে বিপক্ষকে শাসন করে তাঁরা। যদি গোল আসতে সময় লেগে যায় প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিট পর্যন্ত। ৪৫ মিনিটে গিয়ে প্রথম গোলটি করেন। তাঁর আগেই অবশ্য তিনি বসনিয়ার জালে বল জড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেই গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের জন্য।
দ্বিতীয়ার্ধেও শুরুর দিকে দাপট ছিল আমেরিকারই। কিন্তু ৬৪ মিনিটে বালোগন লালকার্ড দেখায় খেলার গতি কিছুটা বদলায়। ১০ জনের আমেরিকাকে চেপে ধরে বসনিয়া। তাতে অবশ্য লাভের লাভ হয়নি। উলটে ৮২ মিনিটে অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আমেরিকার জয় নিশ্চিত করেছেন টিলম্যান। মাঝে অবশ্য আরও একবার বসনিয়ার জালে বল জড়িয়েছিলেন পুলিসিচ। কিন্তু সেই গোলও বাতিল হয় অফসাইডের জন্য। সব মিলিয়ে মোট বার চারেক বিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে আমেরিকা। দুটি গোল বাতিল না হলে ফলাফল বসনিয়ার জন্য আরও লজ্জার হত।
প্রায় আধ ঘণ্টা ১০ জনে খেলেও বসনিয়ার বিরুদ্ধে যেভাবে অনায়াসে জিতলেন মার্কিনিরা, তাতে তাঁদের সমীহ করতেই হয়। ইতিহাস বলছে, ২০০২ সালের পর আর কোনও বিশ্বকাপে ইউরোপের কোনও দেশকে হারাতে পারেনি আমেরিকা। ইতিহাস এও বলছে, শেষবার ওই ২০০২ বিশ্বকাপেই শেষবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের কোনও ম্যাচে জিতেছিল আমেরিকা। তারপর আর কোনও বিশ্বকাপে নকআউটের ম্যাচ জেতা হয়নি মার্কিনীদের। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সত্যিই অন্যরকম দেখাচ্ছে আমেরিকাকে। তথাকথিত বড়-ফেভারিট দলগুলিকেও বেগ দেবেন পুলিসিচরা। তবে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে আরও এক কঠিন ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে আমেরিকাকে। বুধবার রাতে টানটান ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে বেলজিয়াম। আমেরিকাকে লড়তে হবে ডি ব্রুইনদের বিরুদ্ধে।
