shono
Advertisement
FIFA World Cup

পেলের চোট, ব্রাজিলকে বিশ্বজয়ী করেন 'লিটল বার্ড'! বাষট্টির বিশ্বকাপ মানেই গ্যারিঞ্চার জাদু

ডাক্তাররা বলেছিলেন, পোলিও আক্রান্ত ছেলেটার ঠিকভাবে হাঁটাও দুষ্কর। সেই ছেলেই হয়ে ওঠে 'আলেগ্রিয়া দে পোভো'। বাংলায় 'মানুষের আনন্দ'।
Published By: Biswadip DeyPosted: 05:22 PM Jun 24, 2026Updated: 05:26 PM Jun 24, 2026

জীবন আর ফুটবল সমার্থক। ওঠাপড়া আছে সবেতেই। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বিশ্বসেরা হওয়ার পর থেকে পেলে হয়ে ওঠেন বিশ্বের একনম্বর ফুটবল খেলোয়াড়। স্বাভাবিক ভাবেই ১৯৬২ বিশ্বকাপে খেলতে যখন সেলেকাওরা চিলিতে পৌঁছন, সব নজর সীমাবদ্ধ ছিল পেলের দিকেই। কিন্তু কে জানত মাত্র গোটা দুয়েক ম্যাচে খেলেই ছিটকে যেতে হবে তাঁকে। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন আর আশা নেই ব্রাজিলের। তখনই দেখা গেল 'লিটল বার্ড'-এর পায়ের জাদু। বলতে গেলে একাই বাষট্টির বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেন গ্যারিঞ্চা।

Advertisement

চেকোস্লোভাকিয়ার সঙ্গে ম্যাচে কুঁচকিতে চোট পান পেলে। কিন্তু সেই সময় পরিবর্ত খেলোয়াড় নামানোর নিয়মটাই ছিল না। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পুরো ম্যাচটা খেলা কাল হয়ে যায় তাঁর। পেলের চোট বিশ্বজয়ীদের সাফল্যের স্বপ্নে কালো ছায়া হয়ে দেখা দিল। আর সেই ছায়াকে সরিয়ে দিতেই যেন আবির্ভাব ঘটল গ্যারিঞ্চার। ছোটবেলায় পোলিওর কবলে পড়ায় ডান পা ছোট হয়ে গিয়েছিল বাঁ পায়ের থেকে। দু'টো হাঁটুও ছিল বাঁকা। ডাক্তাররা বলেছিলেন, এই ছেলেটার ঠিকভাবে হাঁটাও দুষ্কর। স্পেনের সঙ্গে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সেই পা দিয়েই মাঠে ফুল ফোটালেন 'আলেগ্রিয়া দে পোভো'। বাংলায় 'মানুষের আনন্দ'। দু'জন স্প্যানিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সোনালি পাস দিলেন আমারিলডোকে। তিনি গোল করলেন। ব্রাজিলও নিশ্চিত করল শেষ আটের পর্বের প্রবেশাধিকার।

পেলের চোট বিশ্বজয়ীদের সাফল্যের স্বপ্নে কালো ছায়া হয়ে দেখা দিল। আর সেই ছায়াকে সরিয়ে দিতেই যেন আবির্ভাব ঘটল গ্যারিঞ্চার।

কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। যাদের ডিফেন্স অসম্ভব মজবুত। কিন্তু গ্যারিঞ্চা সেদিন যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন। প্রথমে, কর্নার থেকে এক দুর্দান্ত হেডে গোল। এরপর তাঁর তীব্রগতির ফ্রি কিক রুখে দিলেন ইংরেজ গোলরক্ষক রন স্প্রিংগেট। তবে ফিরতি বলে গোল পেয়ে গেলেন ভাভা। শেষে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল পেলেন গ্যারিঞ্চা। ৩-১ ব্যবধানে জিতে শেষ চারে গেল ব্রাজিল।

সেমিফাইনালে ব্রাজিল মুখোমুখি হয়েছিল আয়োজক দেশ চিলির। গ্যালারিতে চিলির সমর্থকদের বিপুল চিৎকার, শোরগোল। প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতে লাগলেন তাঁরা। কিন্তু গ্যারিঞ্চার সেসবে কিছু যেত আসত না। ফের জোড়া গোল এল তাঁর পা থেকে! একটি বাঁ পায়ের জোরালো শটে। অন্যটি হেডের মাধ্যমে। আবার ভাভাকে দিয়ে গোলও করালেন। ব্রাজিল জিতল ৪-২ ব্যবধানে।

কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। যাদের ডিফেন্স অসম্ভব মজবুত। কিন্তু গ্যারিঞ্চা সেদিন যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন।

কিন্তু একটা বিশ্রী ঘটনাও ঘটল মাঠে। চিলিয়ান ডিফেন্ডার রোজাস বারবার গ্যারিঞ্চাকে মেরে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন। একসময়ে মেজাজ হারিয়ে গ্যারিঞ্চাও আঘাত করলেন তাঁর হাঁটুতে। পরিণাম লাল কার্ড। মাঠ ছাড়ার সময় মাথায় লাগল চিলির সমর্থকদের ছোড়া পাথরও! লাল কার্ড মানেই পরের ম্যাচ, অর্থাৎ ফাইনালে নেই গ্যারিঞ্চা। কিন্তু শেষপর্যন্ত ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের আবেদনে সাড়া দেয় ফিফার শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। রেফারি স্বীকার করে নেন, তিনি নিজে সরাসরি ব্যাপারটা দেখেননি। বরং লাইন্সম্যানের কথার উপরে ভিত্তি করেই লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোটে টিকে যান গারিঞ্চা! তুলে নেওয়া হয় লাল কার্ড। কিন্তু... ফাইনালের আগে প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হলেন গ্যারিঞ্চা। তবু শেষমেশ নামলেন খেলতে।

না, ফাইনালে আর গোল করা হয়নি তাঁর। কিন্তু মাঠে নামা সকলেই দেখেছিলেন চেকোস্লোভাকিয়ার বিরুদ্ধে কীভাবে তাঁকে রুখতেই ব্যস্ত ছিলেন ডিফেন্ডাররা। সেই ফাঁকে গোল করে গেলেন আমারিল্ডো, জিটো ও ভাভা। ৩-১ গোলে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ব্রাজিল। গ্যারিঞ্চাই হলেন প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল) এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট)।

বলতে গেলে একার কাঁধেই দেশকে বিশ্বসেরা করেন গ্যারিঞ্চা। পেলের মতো মহাতারকার অনুপস্থিতিও যেন টের পেতে দেননি। একসময় যাঁকে নিয়ে চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল আদৌ ঠিক মতো হাঁটতে পারবেন কিনা, সেই মানুষটিই মাঠে উড়ে বেড়ালেন 'লিটল বার্ড' হয়ে। দেশকে বিশ্বসেরা করার সঙ্গে সঙ্গে গোটা ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করলেন 'ম্যাজিক' দেখিয়ে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement