‘বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ…’। বাঙালি অস্মিতা রক্ষায় গ্যালারিতে হুঙ্কার সবুজ-মেরুন সমর্থকদের। ভাষার ঐতিহ্য রক্ষায় গর্জে উঠলেন তাঁরা। বেশ কিছু টিফো নিয়ে তাঁরা হাজির হয়েছিলেন যুবভারতী স্টেডিয়ামে। তার মধ্যে নজর কাড়ল সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের ছবি সংবলিত টিফো।
মেসি ইভেন্টে তাণ্ডব, দুঃস্বপ্ন ভুলে আইএসএলের আগে নতুন সাজে সেজে উঠেছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। গ্যালারি সেজে উঠেছে আগের মতোই জৌলুসে। অতীত ঐতিহ্য নিয়েই মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ দিয়ে প্রত্যাবর্তন হল যুবভারতীরও। সেই উপলক্ষে কাতারে কাতারে সমর্থকরা জাতীয় পতাকা ও সবুজ-মেরুন পতাকা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মাঠে। ব্যানার ও টিফো নিয়ে তাঁরা ঢুকেছিলেন ৩ নম্বর গেট দিয়ে।
শনিবাসরীয় যুবভারতী দেখল মেরিনার্সদের গর্জন। ভিন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তা নিয়ে তাঁরা সোচ্চার। বাঙালি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে টিফো এনে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন। তাতে লেখা, 'বাঙালি ভারতকে দিয়েছে সম্মান, শিখিয়েছে মৈত্রী, নেতৃত্ব। আজ বাংলা বললে সে 'বাংলাদেশি': ধর্ম সংকটে ভ্রাতৃত্ব।' সব মিলিয়ে যুবভারতীর গ্যালারিতে আলোকিত হয়েছে বাঙালির মহিমান্বিত ইতিহাস। সত্যজিৎ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের সঙ্গে সেখানে শোভা পেয়েছে নেতাজি, শিবদাস ভাদুড়ি, লিয়েন্ডার পেজের ছবিও। এঁরা ভিন্ন ধর্মের হলেও সকলেই বাংলার কৃতি সন্তান। যাঁরা দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
খেলার মাঠে মোহনবাগানের এমন প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে বংশ পরম্পরায় আমরা যে ভাষায় মাকে ‘মা’ ডাকি, ভারতবর্ষকে ‘ভারতবর্ষ’ বলি, যে ভাষায় অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ইত্যাদি সমস্যা নিয়ে কথা বলি, আলোচনা করি, দাবি ইত্যাদি জানাই, সে ভাষা বাংলা ভাষা, আমাদের মাতৃভাষা। বাংলা ভাষার অমর্যাদা সহ্য করতে না পেরে এবার দৃষ্টান্তমূলক প্রতিবাদে শামিল হলেন সবুজ-মেরুন জনতাও। প্রসঙ্গত, গত মরশুমে ডুরান্ড কাপের সময় একইভাবে গর্জে উঠেছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা।
