আকাশে-বাতাসে এখন ঋতুরাজ বসন্তের দাপট, আর ঠিক তার সমান্তরালেই তিলোত্তমায় ফিরছে ফুটবলের বসন্ত। ক্যালেন্ডার বলছে শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি-একদিকে ভালোবাসার দিন, অন্যদিকে সবুজ-মেরুন আবেগের পরীক্ষায় নামার মাহেন্দ্রক্ষণ। মেসি-আগমনের সেই উত্তাল স্মৃতি এখন ধূসর অতীত। গত ১৩ ডিসেম্বরের সেই জখম কাটিয়ে ওঠার দাওয়াই হিসেবেই কি না, একেবারে ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বিকেলে সেই যুবভারতীতে ফুটবলের প্রেমে পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে আইএসএল। দীর্ঘ পাঁচটা মাস যেন এক অনন্ত প্রতীক্ষা! মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স-ফুটবলের এই মহাযুদ্ধ দিয়েই শুরু হচ্ছে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু ধারালো মরসুম।
মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরার চোখেমুখে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি আর আত্মবিশ্বাস। পাঁচ মাসের খরা কাটিয়ে মাঠে ফেরার তাড়নাটা তাঁর গলায় স্পষ্ট। কারণ, এতদিন ধরে মোহনবাগান কোচ ফুটবলাররা শুধুই শুনে গিয়েছেন, এই শুরু হবে আইএসএল। এই শুরু হবে আইএসএল। আর সেই আশায় প্র্যাকটিস করে গিয়েছেন দিমিত্রিরা। অবেশেষে হাজির সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মোহনবাগান কোচ লোবেরা রাখঢাক না করেই বললেন, "এই মুহূর্তটার জন্যই আমরা প্রহর গুনছিলাম। আমরা পেশাদার, আমাদের প্রস্তুতি সারা। এবার শুধু সমর্থকদের সামনে নিজেদের নিংড়ে দেওয়ার পালা।"
অনুশীলনে মোহনবাগান ফুটবলাররা। নিজস্ব চিত্র
লোবেরার ফুটবল দর্শনে 'অতীত' শব্দটার কোনো জায়গা নেই। ডুরান্ড বা তিনি বিন্দুমাত্র ভাবিত নন। তাঁর সোজা কথা-"আমি শূন্য থেকে শুরু করতে ভালোবাসি। আমার লক্ষ্য একটাই, মরসুম শেষে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা।" এর একটাই কারণ, এবার আইএসএলে লিগ কাম নকআউট নয়। শুধুই লিগ। লিগের শীর্ষ দলই হবে লিগ চ্যাম্পিয়ন। কলকাতার ফুটবল মানেই তো একটা অদৃশ্য চাপের পাহাড়। কিন্তু লোবেরা সেই চাপের সঙ্গেই যেন প্রেম করছেন। হাসিমুখে জানালেন, "চাপ না থাকলে বড় লক্ষ্যে পৌঁছনো যায় না।” বাগানের অন্দরমহলে এখন হাওয়া বেশ ফুরফুরে। কোচের পাশেই বসেছিলেন দলের 'প্রাণভোমরা' দিমিত্রি পেত্রাতোস। দিমি যেন এখন আরও বেশি পরিণত, আরও বেশি চনমনে।
অনুশীলনে মোহনবাগান ফুটবলাররা। নিজস্ব চিত্র
আজ আইএসএলে
মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স, যুবভারতী, বিকেল ৫.০০
