নিয়মের জালে পড়ে হয়তো শেষ পর্যন্ত চার্চিল ব্রাদার্সের জার্সিতেই আইএসএলে খেলতে হবে। কিন্তু জামেশদপুরের (Jamshedpur FC) কোনও ফুটবলারই খেলতে চাইছেন না চার্চিলে। খুব ভালো হত, যদি জামশেদপুর তাঁদের বকেয়া বেতন দিয়ে রিলিজ করে দিত। সেক্ষেত্রে রিলিজ নিয়ে অন্য ক্লাবে খেলার সুযোগ পেতেন ফুটবলাররা। চার্চিলকে আইএসএলের লাইসেন্স হস্তান্তর করে দেওয়ার পর তা অবশ্যই সম্ভব নয়। কিন্তু শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করার জন্য জামশেদপুর এফসি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আজ আলোচনায় বসার চেষ্টা চালাবেন ফুটবলাররা। বোঝাবেন, তাঁরা চার্চিলে খেলতে চাইছেন না।
গত মরশুমে ভারতীয় ফুটবলে না খেলেও শুধুমাত্র জামেশদপুর এফসির থেকে লাইসেন্স নিয়ে সরাসরি আইএসএলে খেলার সুযোগ পেয়ে গিয়েছে চার্চিল ব্রাদার্স (Churchill Brothers)। আর চুক্তিমতো ঠিক হয়েছে, জামশেদপুরের ২ জন কোচ-সহ ১২ জন ফুটবলারের বেতনের যাবতীয় দায়িত্ব নেবে চার্চিল ব্রাদার্স। আর এখানেই বেঁকে বসেছেন জামশেদপুরের ফুটবলাররা। কারণ, যতদিন জামশেদপুর এফসিতে ছিলেন, ততদিন চুক্তিমতো বেতন নিয়ে তাঁদের ভাবতে হয়নি। কিন্তু চার্চিলে চলে গেলে নির্দিষ্ট সময়ে বেতনের কী হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় রয়েছেন ফুটবলাররা।
হঠাৎ করেই আইএসএলে খেলার সুযোগ চলে আসায় এই মুহূর্তে চার্চিলের হাতে কোনও ইনভেস্টর নেই। তাহলে জামশেদপুরের চুক্তিবদ্ধ ফুটবলারদের বেতন চার্চিল কীভাবে মেটাবেন, তা নিয়েই চিন্তায় জামশেদপুর ফুটবলাররা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ফুটবলাররা বলছিলেন, চার্চিল নয়। তাঁরা জামশেদপুর ম্যানেজমেন্ট দেখে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। এবার কেন ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁদের চার্চিল ব্রাদার্সের হয়ে খেলতে হবে? ফুটবলাররা খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন জামেশদপুরের সঙ্গে। লাইসেন্স হস্তান্তরের জন্য কেন তাঁদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে চার্চিলের হয়ে খেলতে হবে?
তাহলে উপায়? ফুটবলাররা জানাচ্ছেন, অনেক আগেই জামশেদপুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল ফুটবলারদের পুরো বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে। সেই ভরসাতেই ছিলেন ফুটবলাররা। বাইরে থেকে জানতে পারছেন, আইএসএল খেলার লাইসেন্স হস্তান্তরের জন্য এখন থেকে তাঁদের বেতন মেটাবে চার্চিল। কিন্তু জামশেদপুর কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে তাঁদের কিছুই জানায়নি। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলাররা ঠিক করেছেন, ডুরান্ড খেলে কলকাতা থেকে ফিরে বুধবারই জামেশদপুর কর্তৃপক্ষর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। জানতে চাইবেন সরকারিভাবে। যদি তারপরেও দেখা যায়, কর্তৃপক্ষ বলছে, তাঁদের বেতন দেবে চার্চিল। ফুটবলারদের তরফে অনুরোধ করা হবে, প্রতিশ্রুতি মতো জামশেদপুর যেন ফুটবলারদের বেতন মিটিয়ে দিয়ে রিলিজ করে দেয়। তাহলে চার্চিলে না খেলে অন্য যে কোনও ক্লাবের হয়ে খেলতে পারবেন ফুটবলাররা। এখন দেখা যাক, বুধবার জামশেদপুর কর্তৃপক্ষর সঙ্গে ফুটবলারদের মিটিংয়ের পর ফলাফল কী হয়।
