বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ধরে রাখার স্বপ্নপূরণ হল না লিওনেল স্কালোনির (Lionel Scaloni)। কাতারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চার বছর পর নিউ জার্সিতে ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে 'দ্বিতীয়' হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল আর্জেন্টিনাকে। তবু পরাজয়ের হতাশার মাঝেও নিজের দলকে নিয়ে গর্বের কথা শোনালেন আর্জেন্টাইন কোচ। একই সঙ্গে লিওনেল মেসির এবং নিজের কোচিং-জীবন নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি।
ফাইনালের পর স্কালোনি বলেন, "ধন্যবাদ ফুটবলার, সমর্থক, দেশবাসীকে। আমরা সর্বস্ব দিয়েছি। জয়ের আগুন নিয়েই বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিলাম। আজকের মতো যদি নিজেদের পুরোটা নিংড়ে দেওয়া যায় মাঠে, তাহলে তার চেয়ে গর্বের আর কিছু হয় না। হারলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো শিখতে হয়। আর তো কোনও রাস্তা নেই।"
প্রশ্ন হল, ইতিহাস কি বিজিতদের মনে রাখে? স্কালোনির কথায়, "অবশ্যই দ্বিতীয়দেরও মানুষ মনে রাখে। আমি তো মনে রাখি। এই জায়গায় পৌঁছতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমরা জিততেই নেমেছিলাম। স্বাভাবিক ভাবেই সবাই হতাশ। কিন্তু মাঠে নেমে সব কিছু দেওয়ার পরেও জয় না পেলে অতটা ভেঙে পড়ার কিছু নেই।" মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে স্কালোনি এখনও বিদায়ের কথা ভাবছেন না। তিনি বলেন, "এখন ওর ৩৯ বছর বয়স। অবিশ্বাস্য। ওর থেকে আমি নতুন কিছু আর বার করতে পারব না। আগেও বলেছি, আজও বলছি, মেসি যত দিন চাইবে তত দিন খেলতে পারে। সমর্থক, সতীর্থ, সবাই ওর পাশে থাকবে। ও যা অর্জন করেছে, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।"
ফাইনালের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্কালোনি। তাঁর মন্তব্য, "এ রকম একটা প্রতিযোগিতা জেতার পর রানার্স-আপ হওয়াতেও আলাদা আনন্দ রয়েছে। এটাও একটা সাফল্য। মানুষ জানে আমরা কী অর্জন করেছি এবং কীভাবে করেছি। আমি লকার রুমে প্রচণ্ড কেঁদেছি। এই দলকে নিয়ে আমি গর্বিত। ওরা প্রত্যেকে এক একজন যোদ্ধা। অসাধারণ একটি দলের বিরুদ্ধে খেলেছি। এতটা ভালো দলের মুখোমুখি হওয়াটাও গর্বের।"
সাংবাদিক সম্মেলনেও শেষ দিকে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার কোচ। নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সত্যি বলতে, আমি এখনও মেসির সঙ্গে কথা বলিনি। সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে হবে। কী করতে চাই সে ব্যাপারে আমার একটা ধারণা রয়েছে। আপাতত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকতে চাই। তারপর দেখা যাবে। এত বড় কিছু আর অর্জন করতে পারব কি না জানি না। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য সভাপতিকে ধন্যবাদ।" স্কালোনির এই মন্তব্যে আর্জেন্টিনার কোচ হিসাবে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আপাতত যা জল্পনা, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কোচিং চালিয়ে যাবেন তিনি।
অন্যদিকে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, "ম্যাচটির ফলাফল অনেক আগেই নির্ধারিত হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তা হতে দেননি।" উল্লেখ্য, ফাইনালের আগে কোনও এক ম্যাচে চারটের বেশি সেভ করতে হয়নি। তবে ফাইনালে ৭৫ মিনিটেই সাতবার সেভ করেন। স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে একাই লড়াই করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক। গোটা ম্যাচে ১২টা সেভ করে নজির গড়েন। তবে অবশেষে তিনি পরাস্ত হন। খুলল গোলমুখ। উইলিয়ামের বাড়ানো বল থেকে এবার আর গোল করতে কোনও ভুল করেননি তোরেস। এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধে ১-০ এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত সেটাই ফলাফল থাকে।
