এবারের বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) নানান কারণে বিতর্কিত শিরোনাম হয়েছে। তা সত্ত্বেও টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বেই দেখা গিয়েছে রেকর্ডের বন্যা। গোল, দর্শকসংখ্যা, ব্যক্তিগত নজির মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ডের ঘড়া কানায় কানায় পূর্ণ।
সবচেয়ে বড় রেকর্ড গোলসংখ্যায়। গ্রুপ পর্বে ৭২ ম্যাচে হয়েছে ২১৫ গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে এত গোল আগে কখনও হয়নি। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৪ বিশ্বকাপে। ১৩৬ গোল। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এবারের আসরে ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল পূর্ণ হয়। শনিবার সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের তৃতীয় গোলটি করে শততম গোলের মাইলফলক পূর্ণ করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। ১৯৫৮ সালের পর এই নজির সবচেয়ে দ্রুত।
এখানেই শেষ নয়। দর্শকসংখ্যার নিরিখে অতীতের সব বিশ্বকাপকে ছাপিয়ে গিয়েছে এবারের বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই মাঠে বসে খেলা দেখা দর্শকের সংখ্যা আগের সব বিশ্বকাপকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ৩.৬ মিলিয়ন দর্শক (৩৬ লক্ষ ৫ হাজার ৩৫৭ জন) ইতিমধ্যেই এবারের বিশ্বকাপ দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছেন। নিউ জার্সিতে জার্মানি বনাম ইকুয়েডর ম্যাচেই দর্শকসংখ্যা আগের সব নজিরকে অতিক্রম করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৩৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৩৮ জন দর্শক মাঠে বসে খেলা দেখেছিলেন। এতদিন এটাই ছিল রেকর্ড। কিন্তু এবারের আসর, সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। তাছাড়া একদিনে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতিতেও নজির তৈরি হয়েছে ১৬ জুন। সেদিন বিভিন্ন ম্যাচ মিলিয়ে মাঠে এসেছিলেন ২,৮১,২২৩ জন। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন। সেদিন সমস্ত ম্যাচ মিলিয়ে মাঠে হাজির হয়েছিলেন ২,৭৭,০৭০ জন দর্শক।
ব্যক্তিগত অর্জনেও হয়েছে দু'টি বড় রেকর্ড। সবচেয়ে বেশি গোলের নজির এখন আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তির লিওনেল মেসির নামে। ১৯ গোলে ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজের রেকর্ড। তাছাড়াও বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করে বিশ্বরেকর্ড এলএম১০-এর। উল্লেখ্য, ৩-১ গোলে জর্ডনকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নকআউটে তাদের সামনে কেপ ভার্দে। অন্যদিকে, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো টানা ছ'টি বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েছেন। পরের পর্বে তাদের সামনে ক্রোয়েশিয়া।
২০ জুন টিউনিসিয়া বনাম জাপানের ম্যাচটি ছিল পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের ১,০০০তম ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে গোলরক্ষকদের মধ্যেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। কুরাসাওয়ের ইলোয় রুম ইকুয়েডরের বিপক্ষে এক ম্যাচে ১৫টি অন-টার্গেট শট বাঁচিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড গড়েছেন। ১৫টি অন-টার্গেট শট বাঁচিয়ে সর্বোচ্চ সেভের নজির কুরাসাওয়ের ইলোয় রুমের। নরওয়ের বিরুদ্ধে খেলার মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যে উসমান দেম্বেলের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক দেখেছে ফুটবলবিশ্ব। আরও রয়েছে। ২১ জুন টিউনিসিয়া বনাম জাপান ম্যাচ ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাজারতম ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক দেখা গিয়েছে এবার। এই তালিকায় রয়েছেন লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) এবং জনাথন ডেভিড (কানাডা)।
তাছাড়াও ক্ষুদ্রতম দেশ হিসাবে নকআউটে গিয়েছে কেপ ভার্দে। গোল করা ক্ষুদ্রতম দেশ হিসাবে নজির গড়েছে কুরাসাও। জার্মানির বিপক্ষে ২১ মিনিটে গোল করে ইতিহাস গড়েন লিভানো কোমেনেনসিয়া। এটাই বিশ্বকাপে করা তাদের প্রথম গোল। সবচেয়ে বয়স্ক ম্যানেজারের নজির কুরাসাওয়ের ডিক অ্যাডভোকাটের। ৭৮ বছর ২৬০ দিন বয়সে ডাগ আউটে বসার রেকর্ড গড়েন। এখন দেখার, নকআউট পর্বে আরও কত নতুন ইতিহাস লেখা হয়।
বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বে রেকর্ডের বন্যা
- সর্বোচ্চ গোল: ৭২ ম্যাচে ২১৫
- দ্রুততম ১০০ গোল (৩৩ ম্যাচে)
- মাঠে রেকর্ড দর্শক: প্রায় ৪০ লক্ষ
- একদিনে সর্বোচ্চ দর্শক: ১৬ জুন, ২,৮১,২২৩ জন
- সর্বাধিক লাল কার্ড: ১০
- টানা ৬ বিশ্বকাপে গোল: ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর
- ক্লোজের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল: লিওনেল মেসির (১৯)
- ১৫টি অন-টার্গেট শট বাঁচিয়ে সর্বোচ্চ সেভ: ইলোয় রুমে (কুরাসাও)
- গ্রুপ পর্বে হ্যাটট্রিকের হ্যাট্রিক: ডেভিড (কানাডা), মেসি (আর্জেন্টিনা), দেম্বেলে (ফ্রান্স)
- দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক: নরওয়ের বিপক্ষে উসমান দেম্বেলে, ৩২ মিনিটে
- ক্ষুদ্রতম দেশ হিসাবে নকআউটে: কেপ ভার্দে
- গোল করা ক্ষুদ্রতম দেশ: কুরাসাও (জার্মানির বিপক্ষে গোল লিভানোর)
- বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার জয়: মিশর
