কলকাতা থেকে নিউ জার্সির দূরত্ব প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কিমি। সেখানে বিশ্বকাপের ফাইনালে (FIFA World Cup 2026 Final) মুখোমুখি স্পেন এবং আর্জেন্টিনা। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কলকাতা ভারতীয় ফুটবলের ভরকেন্দ্র। বিশ্বকাপ ফাইনাল বলে কথা, আর শহর কলকাতায় তার উন্মাদনা থাকবে না, তা কি হয়? ছুটির দিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল-জ্বরে কাবু ছিল তিলোত্তমা। এবার তাদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ। বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার জ্বলজ্বল করে উঠল মোহনবাগানের নাম।
ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ১৯১১ সালে মোহনবাগানের শিল্ডজয়। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নতুন আগুন জুগিয়েছিল খালি পায়ে এগারোজন বাঙালির সাফল্য। সেই ইতিহাস আবার ফিরে এল যুবভারতীতে। মেরিনার্স বেস ক্যাম্পের বিরাটাকার টিফো ধরল সেই লড়াইয়ের কাহিনি। ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার থেকে একত্রিত হল বাঙালি। শুরু হল খালি পায়ে গোরাদের সঙ্গে ফুটবল যুদ্ধের প্রস্তুতি। অবশেষে ফাইনালে ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ডজয়। সেই গর্বের ইতিহাস আজও বহন করেছে গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাব। হয়তো তারই স্বীকৃতি পেল তারা। কীভাবে?
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের (FIFA World Cup 2026 Final) ‘সুপারশাউট’-এ দেখা গেল লেখা রয়েছে ‘জয় মোহনবাগান’। এই বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন মোহনবাগানের সদস্য ও সমর্থক গৌরব রায়। গৌরব ইমেলে ফিফার কাছে বার্তাটি পাঠান। পরে ফিফা তাঁকে জানায়, বার্তাটি অনুমোদন করা হয়েছে এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের সুপারশাউটে দেখানো হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বার্তা পাঠানো হলেও তার মধ্যে বাছাই করে মাত্র কয়েকটি নাম দেখানো হয়। এর মধ্যেই ছিল ‘জয় মোহনবাগান’।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মোহনবাগানের নাম উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা।
