বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। তার আগে আর্জেন্টিনা দলে উদ্বেগের খবর। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে আচমকাই মাঠ ছাড়লেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। মেগা টুর্নামেন্টের মাত্র ১৮ দিন বাকি। এমন সময় এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে সাদা-আকাশি শিবিরে।
মায়ামির এনইউ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭০ মিনিটের দিকে ফ্রি-কিক নেওয়ার পর বাঁ ঊরুর উপরের অংশে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। নিজেই বদলির আবেদন জানান। ৭৩ মিনিটে তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন মাতেও সিলভেত্তি। যদিও মাঠ ছাড়ার সময় বা ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে মেসির অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। তবুও তাঁর চোট দলের দারুণ প্রত্যাবর্তনের জয়কে ফিকে করে দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাঁর মাঠ ছাড়ার পরের আচরণে। কারণ ডাগআউটে না বসে সরাসরি ড্রেসিংরুমে ফিরে যান এলএম১০।
ম্যাচটি ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। শুরুতেই দাপট দেখায় ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। প্রথম ৯ মিনিটেই তারা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর মেসির পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান গেরমান বেরটেরামে। তবে আবারও গোল করে ব্যবধান বাড়ায় ফিলাডেলফিয়া। ৩-১ পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি মায়ামি। প্রথমার্ধের মধ্যেই তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে স্কোরলাইন ৪-৩ করে ফেলে। বেরটেরামে ও লুইস সুয়ারেজ জোড়া গোল করেন। এর মধ্যে জোড়া অ্যাসিস্ট মেসির। তবে বিরতির আগে হ্যাটট্রিক করে স্কোর লাইন ৪-৪ করেন মিলান ইওস্কি।
দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টির কারণে খেলার গতি কিছুটা কমে এলেও উত্তেজনা কমেনি। মেসি মাঠ ছাড়ার পরও তাঁর অভাব বুঝতে দেয়নি সতীর্থরা। ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সুয়ারেজ। শেষ দিকে গোল করে ব্যবধান ৬–৪ করেন রদ্রিগো দি পল। ম্যাচ শেষে মেসির চোট নিয়ে কোচ গিলের্মো হয়োস বলেন, “এ মুহূর্তে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ আমাদের হাতে কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট নেই। তবে যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, ও খুব ক্লান্ত ছিল। এমন অবস্থায় ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।” আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের মতে, হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করায় সতর্কতামূলকভাবেই মাঠ ছাড়েন মেসি। এখন গোটা ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে একটি প্রশ্নের দিকে, চোট কাটিয়ে সময়মতো মাঠে ফিরতে পারবেন কি মেসি? নাকি এই হ্যামস্ট্রিং সমস্যাই থামিয়ে দেবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন?
