তাঁর হাত ধরে আইএসএল জিতেছিল দল। ২২ বছর পর ভারতসেরা হয় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু নতুন মরশুম শুরু হওয়ার আগেই লাল-হলুদ ভক্তদের বিদায় জানালেন কোচ অস্কার ব্রুজো। অর্থাৎ দলবদলের বাজারে একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব। প্রথমে ব্রাজিলীয় ফুটবলার মিগুয়েল, আর এবার লাল-হলুদে আর না ফেরার কথা ঘোষণা স্প্যানিশ কোচের।
সোশাল মিডিয়ায় অস্কার লেখেন, 'ইস্টবেঙ্গল আমাকে হেডকোচ হিসাবে চুক্তি নবীকরণের প্রস্তাব দিয়েছিল। ক্লাবের এই আস্থায় কৃতজ্ঞ। অনেক ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আর ইস্টবেঙ্গলে থাকছি না। সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে আমার কেরিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।' গত মরশুমের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। 'আমরা একসঙ্গে যে সাফল্য পেয়েছি, তার জন্য গর্বিত। এএফসি প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছনো, ২২ বছরের অপেক্ষার পর আইএসএল জয়-সহ দু'টি প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছি আমরা।'
অস্কারের কথায়, 'ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট, খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ এবং আমাদের অসাধারণ সমর্থকদের ধন্যবাদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁরা। আপনাদের সমর্থন ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হত না।' ৩১ মে চুক্তি শেষ হয়েছে অস্কারের। সেই সময় সোশাল মিডিয়ায় খোলা চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। ‘লাল-হলুদের সমর্থক’দের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, ‘আমাগো ফ্যানরা ইস্টবেঙ্গলের প্রাণ। তাঁদের উদ্দেশ্য করে আবেগভরে চিঠিটা লিখছি। এই মরশুমটা আমি সারাজীবন মনে রাখব। আইএসএল জয় এক ঐতিহাসিক ঘটনা। যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা সবাই অসাধারণ। আমরা ডুরান্ড ও সুপার কাপের ফাইনালে উঠেছি। সেখানে হেরে গেলেও কামব্যাক করেছি। আইএসএল জেতার জন্য দারুণ মানসিক শক্তি দেখিয়েছে। তার জন্য আমি গর্বিত।’
উল্লেখ্য, আইএসএল চলাকালীনই অস্কার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মরশুম শেষে তিনি ক্লাব ছাড়তে পারেন। পরে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করলেও, কোচ নিজের পছন্দের তিন বিদেশি ফুটবলারকে দলে রাখার শর্ত দেন। কিন্তু মিগুয়েলকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় ক্লাব। কেভিন সিবিয়ের বিষয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একমাত্র রশিদকে ধরে রাখতে পেরেছে লাল-হলুদ শিবির। অনেকেরই ধারণা, হয়তো এই কারণেই লাল-হলুদের দায়িত্ব ছেড়েছেন ব্রুজো।
