দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) একটা টিকিট পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক মাস আগে থেকে টিকিটের জন্য কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ হাজার চেষ্টাতেও একটা জোগাড় করে উঠতে পারেন না। অথচ সেই বিশ্বকাপের ম্যাচ কিনা স্টেডিয়ামে শ'য়ে শ'য়ে আসন ফাঁকা! এমনই চিত্র দেখা গিয়েছে শুক্রবার সকালের চেক প্রজাতন্ত্র বনাম দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে।
ওই ম্যাচটি আয়োজিত হয়েছিল মেক্সিকোর গুয়াদালজারা স্টেডিয়ামে। ওই ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। খুব প্রাণবন্ত, গতিশীল ফুটবল হয়েছে। অথচ সেই ম্যাচে খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে বহু আসনে কোনও সমর্থক ছিলেন না। শয়ে শয়ে আসন স্রেফ ফাঁকা পড়েছিল। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এ ছবি বড় বিরল। চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, দর্শক যে কম হয়েছে সেটা ফিফা স্বীকারও করছে না। ফিফার দাবি, ৪৬ হাজার আসনের ওই স্টেডিয়ামে শুক্রবার সকালে উপস্থিত হয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন দর্শক। যদিও মাঠে থাকা সাংবাদিকদের স্পষ্ট বক্তব্য, ভিড় অনেক কম হয়েছিল।
বিশ্বকাপে ফাঁকা স্টেডিয়াম। ফাইল ছবি।
কিন্তু এই কম ভিড়ের কারণ কী? অনেকে বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়া বা চেক প্রজাতন্ত্র কোনও দলই বিশ্ব ফুটবলে তথাকথিত বড় দল নেই। কোনও দলে তেমন বিশ্ববরেণ্য তারকাও নেই। ফলে স্থানীয় দর্শকরা সেভাবে ম্যাচে আগ্রহ দেখাননি। তাছাড়া মেক্সিকো দুই দেশ থেকেই অনেক দূরে অবস্থিত। ফলে ওই দেশগুলির নিজেদের সমর্থকরাও সেভাবে মেক্সিকো যেতে পারেননি। তাছাড়া চেক প্রজাতন্ত্র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে অনেক পরে। ফলে সমর্থকরা বেশি সময় পাননি। তবে সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্যই টিকিটের দাম।
ফিফা বিশ্বকাপের চড়া টিকিটের দাম নিয়ে ইতিমধ্যেই বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। সাধারণ মানের ম্যাচের খেলা দেখতেও ৫-১০ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে বহু সমর্থকই খেলা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও যেতে পারছেন না। যদিও ফিফা এই টিকিটের দাম নিয়ে আজব সাফাই দিয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বক্তব্য, “কম দামে টিকিট বিক্রি করলে সেই টিকিট কালো বাজারে চড়া দামে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, টিকিটের দাম এত বেশি রাখা হয়েছে যে সমর্থকরা সোজা পথেই টিকিট কিনে উঠতে পারছেন না।
