ভিটামিন সি বা ডি-এর অভাব নিয়ে চর্চা চলতেই থাকে। কী দেখে বোঝা যাবে যে এমন ভিটামিনের অভাব রয়েছে শরীরে, কী করেই বা সে ঘাটতি পূরণ করা যাবে, সে সবের অনেকখানি সাধারণ মানুষেরও জানা। তাছাড়া ভিটামিন সি পেতে সহজেই লেবু অথবা টকজাতীয় ফল খাওয়া যায়। ভিটামিন ডি পেতে গিয়ে দাঁড়ানো যায় সূর্যের আলোর নিচে।
বিশ্রাম নেওয়ার পরও ক্লান্তি দূর হয় না। শরীরে শক্তি কম ও দুর্বল লাগে।
কিন্তু যা নিয়ে একেবারেই কথা হয় না, তা হল ভিটামিন বি-১২ (vitamin b12)। কিন্তু জানেন কি, ভিটামিন সি বা ডি-এর মতো এই ভিটামিনও মানবশরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কী করে বুঝবেন এই ডিটামিন কম রয়েছে আপনার শরীরে? একাধিক উপায় রয়েছে তা অনুমান করার।
- বিশ্রাম নেওয়ার পরও ক্লান্তি দূর হয় না। শরীরে শক্তি কম ও দুর্বল লাগে।
- হাত বা পায়ে সূঁচ ফোটার মতো অনুভূতি হতে পারে। দীর্ঘদিন থাকলে স্নায়ুর সমস্যা বাড়তে পারে।
- হাঁটার সময় বা দাঁড়িয়ে থাকলে অস্থির লাগতে পারে। সহজেই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
- মুখ বা শরীরের রং স্বাভাবিকের চেয়ে ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।
- জিহ্বা মসৃণ ও লাল হয়ে যেতে পারে। মুখে ব্যথাযুক্ত ঘা হতে পারে, যা খাওয়া বা কথা বলায় অসুবিধা সৃষ্টি করে।
- কোনও বিষয় মনে রাখতে সমস্যা হতে পারে।
- কাজে বা পড়াশোনায় মন বসাতে কষ্ট হতে পারে।
- খিটখিটে ভাব, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে।
কেন এমন হয়?
- ভিটামিন বি-১২ সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
- এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।
- বি-১২ কমে গেলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়, ফলে ক্লান্তি ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।
- দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে স্থায়ী স্নায়ুর ক্ষতি (Permanent Nerve Damage) হতে পারে।
কাজে মন বসাতে কষ্ট হতে পারে। খিটখিটে ভাব, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে।
কী করবেন?
এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই বি-১২-এর ঘাটতি ধরা যায়। সঠিক চিকিৎসা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা করলে জটিলতা এড়ানো যায়।
