প্রথমবার ৪৮ দেশের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। ফুটবলের মহাযুদ্ধে কে হবে বিশ্বজয়ী? কী হবে হট ফেভারিট দেশগুলোর রণকৌশল? কেমন হতে পারে সেরা একাদশ? শক্তি-দুর্বলতাই বা কী? চুলচেরা বিশ্লেষণে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। আজ আলোচনায় জার্মানি (Germany World Cup 2026 Squad)।
গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ: বিশ্বকাপে জার্মানি রয়েছে ‘ই’ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কুরাসাও (১৪ জুন), আইভরি কোস্ট (২০ জুন) ও ইকুয়েডর (২৫ জুন)।
স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: ম্যানুয়েল ন্যয়ার, অলিভার বাউমান, আলেকজান্ডার ন্যুবেল।
রক্ষণ: জোশুয়া কিমিচ (অধিনায়ক), আন্তোনিও রুডিগার, জোনাথন টাহ, নিকো শ্লোটারবেক, ডেভিড রাউম, ভালডেমার আন্টন, ম্যালিক থিয়াও, নাথানিয়েল ব্রাউন।
মাঝমাঠ: জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান রিটজ, লিয়ন গোরের্ৎজকা, আলেকসান্দার পাভলোভিচ, ফেলিক্স এনমেচা, অ্যাঞ্জেলো স্টিলার, পাসকাল গ্রস, নাদিম আমিরি, আসান ওয়েড্রাওগো, জেমি লেভেলিং, লেরয় সানে।
ফরোয়ার্ড: কাই হাভার্ৎজ, মাক্সিমিলিয়ান বায়ার, নিক ভোল্টেমাড, ডেনিজ উনদাভ।
কোচ: জুলিয়ান নাগেলসম্যান।
সম্ভাব্য একাদশ: ম্যানুয়েল ন্যয়ার, জোশুয়া কিমিচ, জোনাথন টাহ, নিকো শ্লোটারবেক, ডেভিড রাউম, আলেকসান্দার পাভলোভিচ, লিয়ন গোরের্ৎজকা, জেমি লেফেলিং, জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান রিটজ, কাই হাভার্ৎজ।
- শক্তি
সৃজনশীল অ্যাটাকিং মিডফিল্ড: জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান রিটজের মতো তরুণ তারকার গতি, ড্রিবলিং ও সুযোগ তৈরি করার দক্ষতায় দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। - শক্তিশালী আক্রমণভাগ: কাই হাভার্ৎজ, লেরয় সানে, ডেনিজ উনদাভ ও ম্যাক্সিমিলিয়ান বেইয়ারের উপস্থিতি জার্মানিকে আক্রমণে বাড়তি গভীরতা ও বৈচিত্র্য দিয়েছে।
- নাগেলসম্যানের মগজাস্ত্র: কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের আধুনিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শন দলকে আরও গতিশীল করে তুলেছে। যা প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।
- ন্যয়ারের অভিজ্ঞতা: অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ারের উপস্থিতি রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করে। তাঁর অভিজ্ঞতা সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।
দুর্বলতা
- মুসিয়ালার ফিটনেস: জামাল মুসিয়ালা পুরোপুরি ফিট না থাকলে দলের আক্রমণভাগ দুর্বল হতে পারে।
- স্ট্রাইকারদের ছন্দহীনতা: স্ট্রাইকারদের কেউ চোটে ভুগেছেন, আবার কেউ নিজের স্বাভাবিক পজিশনে খেলেননি। ফলে গোল করার ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
- মিডফিল্ড ও রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব: মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে বোঝাপড়া আরও ভালো করতে হবে। অনেক সময় দলটি আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে না।
- শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বাধা: নকআউট পর্বে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হলে জার্মানির জন্য পথ কঠিন হয়ে যেতে পারে।
এক্স ফ্যাক্টর: জামাল মুসিয়ালা। জার্মানির বিশ্বকাপ স্বপ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা মিডফিল্ডার। গত গ্রীষ্মে ক্লাব বিশ্বকাপে পা ভাঙা ও গোড়ালিতে গুরুতর চোট পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। জানুয়ারিতে ফের খেলায় ফিরলেও পুরো ফিটনেস ফিরে পেতে সময় লেগেছে। ৩১ মে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে মার্চের পর প্রথমবার ৯০ মিনিট খেলেন মুসিয়ালা।
রণকৌশল: জার্মানির ৪-২-৩-১ ছকে মূল স্ট্রাইকার হিসাবে কে খেলবেন, তা এখনও পুরোপুরি ঠিক হয়নি। ফিট থাকলে কাই হাভার্টজই কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের প্রথম পছন্দ। সম্প্রতি আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচেও গোল করেছেন তিনি। তবে নিক ভোল্টেমাডের লম্বা চেহারা ও শারীরিক শক্তি জার্মানিকে আক্রমণ গড়ার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ মরশুমে বুন্দেসলিগায় ১৯ গোল করে জার্মান ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ডেনিজ উনদাভ। তাঁকে নিয়ে নাগেলসমান বলেন, “এমন একজন স্ট্রাইকারকে দলে না নেওয়ার কোনও কারণ নেই।”
সম্ভাবনা: এই গ্রুপে জার্মানিই সবচেয়ে শক্তিশালী দল। স্কোয়াডের গভীরতা ও তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের অন্যতম দাবিদার তারা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারলে শুধু শেষ ষোলো বা কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, টুর্নামেন্টের শেষ চারেও জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জার্মানির।
