shono
Advertisement
Hair Transplant

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করাবেন? চকচকে টাক ঢাকতে গিয়ে বিপদ বাড়বে না তো!

যখন মুঠো মুঠো চুল উঠতে শুরু করে আর আয়নায় চওড়া টাক ধরা দেয়, তখন শুরু হয় দুশ্চিন্তা। প্রথমে ঘরোয়া টোটকা। তারপর বাজারের দামি ব্র্যান্ডের নানা ক্রিম, শ্যাম্পু। শেষমেশ দিশাহারা হয়ে কেউ কেউ বেছে নেন 'হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট'। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, আর পাঁচটা সার্জারির মতোই এর কিছু সাইড এফেক্ট রয়েছে। সেগুলি সম্পর্কে আগেভাগে জেনে নিয়ে এগোনো উচিত।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:47 PM Jan 26, 2026Updated: 07:47 PM Jan 26, 2026

চুল থাকতে চুলের মর্ম বোঝে ক'জন? কম বয়েসে শরীরের উপর প্রবল অত্যাচার। কিংবা লাগামছাড়া বাজারের তেল, শ্যাম্পু, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট। কখনও এই জেল, কখনও ওই ক্রিম। এভাবেই যুবা বয়েসে চুলের বারোটা বাজিয়ে ফেলেন অনেকেই। যখন মুঠো মুঠো চুল উঠতে শুরু করে আর আয়নায় চওড়া টাক ধরা দেয়, তখন শুরু হয় দুশ্চিন্তা। প্রথমে ঘরোয়া টোটকা। তারপর বাজারের দামি ব্র্যান্ডের নানা ক্রিম, শ্যাম্পু। শেষমেশ দিশাহারা হয়ে কেউ কেউ বেছে নেন 'হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট'। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, এটি কোনও ম্যাজিক নয়, রীতিমতো একটি অস্ত্রোপচার। আর পাঁচটা সার্জারির মতোই এর কিছু সাইড এফেক্ট রয়েছে।

Advertisement

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিস্থাপনের পর বেশ কিছু সমস্যার মোকাবিলা করতে হতে পারে রোগীদের। সেগুলি সম্পর্কে আগেভাগে জেনে নিয়ে এগোনো উচিত।

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

১. মুখ ও মাথার ফোলাভাব: অস্ত্রোপচারের পর স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে প্রদাহ হতে পারে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় 'এডিমা' বলে। অনেকের ক্ষেত্রে কপাল, চোখ এবং গাল পর্যন্ত ফুলে যায়। তবে এটি সাময়িক। সঠিক পরিচর্যায় এক সপ্তাহের মধ্যেই এই ফোলাভাব কমে আসে।

২. অসহ্য যন্ত্রণা: ট্রান্সপ্লান্টের সময় লোকাল অ্যানাস্থেসিয়া ব্যবহার করা হলেও, তার রেশ কাটার পর শুরু হয় ব্যথা। সূঁচ ফোটার মতো তীব্র অস্বস্তি হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসায় ব্যথানাশক ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

৩. 'শক লস'-এর আতঙ্ক: প্রতিস্থাপনের ২ থেকে ৬ সপ্তাহ পর অনেকেরই নতুন বসানো চুল ঝরতে শুরু করে। একে বলা হয় 'শক লস'। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মাস তিনেক পর থেকে আবার নতুন ফলিকল থেকে চুল গজাতে শুরু করে।

ট্রান্সপ্লান্টের সময় লোকাল অ্যানাস্থেসিয়া ব্যবহার করা হলেও, তার রেশ কাটার পর শুরু হয় ব্যথা

৪. সংক্রমণ ও চুলকানি: যাঁদের মাথার চামড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে ইরিটেশন বা চুলকানি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ধুলোবালি বা ঘাম জমলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় ক্ষতস্থানে ছোট ছোট ঘা বা 'ফলিকুলাইটিস' হতে দেখা যায়।

৫. স্ক্যাল্পের অসাড়তা: অস্ত্রোপচারের জায়গায় স্নায়ুর ওপর চাপের ফলে অনেক সময় মাথার ত্বক কিছুদিনের জন্য অসাড় হয়ে যেতে পারে। একে 'নামনেস' বলা হয়। যদিও এটি কয়েক মাস পর ঠিক হয়ে যায়।

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার রক্তচাপ বা সুগারের মাত্রা ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন। মনে রাখবেন, সঠিক ক্লিনিক এবং দক্ষ চিকিৎসকই পারেন এই ঝুঁকিগুলো কমিয়ে আনতে। অন্যথায় যেকোনও বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন আপনিও।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement