যাঁর কণ্ঠে ভর করে প্রেম, বেদনা আর স্মৃতির রং ছড়িয়েছে, সেই অলকা ইয়াগনিক (Alka Yagnik) আজ লড়ছেন এক বিরল শ্রবণশক্তি-জনিত অসুখের সঙ্গে। হঠাৎ করে শব্দ হারিয়ে যাওয়া শুধু এক শিল্পীর ব্যক্তিগত সংকট নয়, এটা আমাদের সবার জন্যই এক সতর্কবার্তা। কারণ, অজান্তেই আমাদের প্রতিদিনের ছোট অভ্যেসগুলোই হয়তো ডেকে আনছে এমন সব বিপদ।
যাঁর কণ্ঠ শুনে বড় হয়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম, আজ নিজেই লড়ছেন এক কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে। বিরল সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লসে আক্রান্ত হওয়ার দু'বছর পর তিনি জানালেন, সমস্যা এখনও কাটেনি। কাজের প্রস্তাব আসছে, কিন্তু কণ্ঠস্বর আর আগের মতো সাড়া দিচ্ছে না।
ফিরুক সুরেলা কন্ঠ। ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ নেমে আসা নীরবতা
২০২৪ সালে একদিন বিমান থেকে নামার পর আচমকাই বুঝতে পারেন, চারপাশের শব্দ যেন হারিয়ে গেছে। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু এক অদৃশ্য লড়াই। পরে জানা যায়, ভাইরাল সংক্রমণের জেরে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই রোগ কেন এত জটিল?
সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস মূলত কানের ভেতরের অংশ বা শ্রবণ স্নায়ুর সমস্যার কারণে হয়। এতে শুধু শোনার ক্ষমতা কমে না, শব্দের স্পষ্টতাও হারিয়ে যায়। অনেক সময় মানুষ শব্দ শুনতে পেলেও কথার অর্থ বুঝতে পারেন না, এটাই এই রোগের সবচেয়ে বড় জটিলতা।
নীরবে বাড়তে থাকা ঝুঁকি
এই সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে-
- ভাইরাল সংক্রমণ। যেমন মাম্পস, রুবেলা
- দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকা
- বয়সজনিত কিছু পরিবর্তন
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- মাথায় আঘাত
- জেনেটিক কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে এবং শুরুতে বা প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও লক্ষণ না থাকায় ধরাও পড়ে না।
ছবি: সংগৃহীত
ইয়ারফোনে জোরে গান- অভ্যেস না বিপদ?
উচ্চ ভলিউমে ইয়ারফোনে গান শোনা ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে জোরে শব্দ কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিতে পারে, যা একসময় শ্রবণশক্তি কমিয়ে দেয়।
কীভাবে নিজেকে বাঁচাবেন?
কিছু সহজ অভ্যেসই আপনাকে রক্ষা করতে পারে-
- ৬০-৬০ নিয়ম মেনে চলুন। ৬০% ভলিউমে, সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট
- অপ্রয়োজনীয় হেডফোন ব্যবহার কমান
- অতিরিক্ত উচ্চ শব্দ থেকে দূরে থাকুন
- কানে সংক্রমণজনিত কোনও সমস্যা দেখা দিলে, দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- নিয়মিত হিয়ারিং টেস্ট করান
চিকিৎসার পথ
রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হয়। হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর স্থায়ী ক্ষতির ক্ষেত্রে হিয়ারিং এইড বা ককলিয়ার ইমপ্লান্টই ভরসা।
একজন শিল্পীর জীবনে শব্দই সবকিছু। সেই শব্দই যখন হারিয়ে যেতে বসে, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, আমাদের সবার জন্যই এক সতর্কবার্তা। অলকা ইয়াগনিকের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, আজকের ছোট অসাবধানতাই আগামী দিনের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এখনই সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।
