দীর্ঘদিন ধরে পেট ও কোমরের অসহ্য ব্যথা নিয়ে দিন কাটছিল বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বাসিন্দা হরগোপাল রায়ের। একের পর এক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলেও সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার আশায় কলকাতায় এসে স্বস্তির মুখ দেখলেন ২৬ বছরের এই তরুণ। ডিসান হসপিটালে রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে তিনি জটিল কিডনির সমস্যা থেকে ফিরলেন সুস্থ জীবনে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁর ডান কিডনিতে পেলভি-ইউরেটেরিক জাংশন (পিইউজে) অবস্ট্রাকশন রয়েছে, যার ফলে কিডনি থেকে মূত্রের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। এর জেরে কিডনি ফুলে যাওয়ার সমস্যা বা হাইড্রোনেফ্রোসিসও দেখা দেয়। পাশাপাশি কিডনির নিচের অংশে একটি পাথরও ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা ভবিষ্যতে কিডনির স্থায়ী ক্ষতির কারণও হতে পারত।
রোগীর যাবতীয় পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. সুজয় বসাকের নেতৃত্বাধীন চিকিৎসক দল রোবোটিক-সহায়ক পাইলোপ্লাস্টির সিদ্ধান্ত নেয়। অত্যাধুনিক এই অস্ত্রোপচারে রোবোটিক প্রযুক্তির সাহায্যে বাধাপ্রাপ্ত অংশটি অপসারণ করা হয় এবং অ্যান্ডারসন-হাইনস পাইলোপ্লাস্টি পদ্ধতিতে নতুন করে মূত্রপ্রবাহের পথ তৈরি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়। কোনও জটিলতা ছাড়াই তিনি সুস্থ হয়ে হসপিটাল থেকে ছাড়া পান।
সফল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক দলের সঙ্গে সুস্থ হয়ে ওঠার মুহূর্ত
ডা. সুজয় বসাকের কথায়, রোবোটিক সার্জারি জটিল ইউরোলজিক্যাল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির কারণে অস্ত্রোপচার হয় অনেক বেশি নির্ভুল, রক্তক্ষরণ ও ব্যথা কম হয় এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। এই ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত ভালো ফল পেয়েছি।
সুস্থ জীবনে ফেরা হরগোপাল রায় বলেন, অনেকদিন ধরে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম। কোথাও সমস্যার সঠিক সমাধান পাচ্ছিলাম না। ডিসান হসপিটালে আসার পর রোগ ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমি সুস্থ হয়ে উঠেছি। চিকিৎসক, নার্স এবং হসপিটালের সমস্ত কর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও যত্ন আমি কোনওদিন ভুলব না।
ডিসান হসপিটালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্তের কথায়, আন্তর্জাতিক রোগীর উপর আমাদের প্রথম রোবোটিক ইউরোলজিক্যাল অস্ত্রোপচারের সফলতা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত ও বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলির রোগীদের জন্য বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
