চোখে ঝাপসা দেখা, আলোতে অস্বস্তি বা বারবার চশমার পাওয়ার বদলানো- এগুলোকে অনেকেই বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে এড়িয়ে যান। আবার কেউ মনে করেন, ছানি শুধু বয়স্কদেরই হয় বা ছানি পুরোপুরি 'পাকলে' তবেই অপারেশন করানো উচিত। এমন ভুল ধারণার কারণেই হাজার হাজার মানুষ সময়মতো চিকিৎসার সুযোগ হারান। এই ভুল বিশ্বাসই অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
চক্ষু বিশেষজ্ঞের মতে, চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ শুধুমাত্র ভুল ধারণার কারণে ছানির অস্ত্রোপচারে দেরি করেন। অথচ সময়মতো চিকিৎসা করালে দৃষ্টিশক্তি সহজেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সমস্যাকে অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত
ভুল ধারণা ১
ছানি শুধু বয়স্কদেরই হয়
এটি সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছানির ঝুঁকি বাড়লেও, এই রোগ যে কোনও বয়সেই হতে পারে। অনেক শিশু জন্মগতভাবেই ছানিতে আক্রান্ত হয়। আবার চোখে আঘাত, ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিন স্টেরয়েডের ব্যবহার, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ, ধূমপান বা চোখের পুরনো আঘাত থেকেও ছানি হতে পারে। চক্ষু বিশেষজ্ঞের কথায়, কম বয়সিদের মধ্যে এই ভুল ধারণা থাকায় অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়।
ভুল ধারণা ২
ছানি 'পাকলে' তবেই অপারেশন করতে হয়
একসময় এই ধারণা প্রচলিত থাকলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর আর কোনও ভিত্তি নেই। বর্তমানে ছানির অস্ত্রোপচার একটি নিরাপদ ও স্বল্পসময়ের ডে-কেয়ার প্রক্রিয়া। ঝাপসা দেখার কারণে যদি বই পড়া, কম্পিউটারে কাজ, টিভি দেখা, গাড়ি চালানো বা মুখ চিনতে সমস্যা হয়, তাহলে আর অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অযথা দেরি করলে ছানি আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে অস্ত্রোপচার জটিল হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ হতেও বেশি সময় লাগে।
আধুনিক প্রযুক্তি ছানি অপারেশনকে করেছে সহজ। ছবি: সংগৃহীত
ভুল ধারণা ৩
ছানির অপারেশন খুব কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ
অস্ত্রোপচারের ভয়েই অনেক রোগী চিকিৎসা পিছিয়ে দেন। কিন্তু বাস্তবে ছানির অপারেশন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও সফল অস্ত্রোপচারগুলোর একটি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই অস্ত্রোপচার সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া হওয়ায় ব্যথা খুবই কম বা প্রায় থাকে না। অধিকাংশ রোগী একই দিন বাড়ি ফিরে যেতে পারেন এবং এক-দু'দিনের মধ্যেই দৃষ্টিশক্তির উন্নতি বুঝতে পারেন। ফ্যাকোইমালসিফিকেশন প্রযুক্তি এবং উন্নতমানের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স (আইওএল) ব্যবহারের ফলে এখন অস্ত্রোপচার আরও সফল এবং দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সময়মতো চিকিৎসাই ভালো রাখে দৃষ্টিশক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ছানির লক্ষণগুলো কী?
- ঝাপসা বা ঘোলা দেখা
- আলো বা হেডলাইটের ঝলকানিতে চোখে অস্বস্তি
- রাতে দেখতে অসুবিধা
- রং আগের তুলনায় ফিকে বা মলিন মনে হওয়া
- বারবার চশমার পাওয়ার বদলানোর প্রয়োজন হওয়া
এসব লক্ষণকে বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
সময়মতো চিকিৎসাই দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারে
ছানি এমন একটি সমস্যা, যার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে এবং সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচারে দৃষ্টিশক্তি দ্রুত ফিরে আসে। তাই চোখে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন অনুভব করলে ভুল ধারণায় বিশ্বাস না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
