ওষুধের আড়ালে নেশায় লাগাম টানতে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের। দীর্ঘদিন ধরে কিছু উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধ নিয়মের ফাঁক গলে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি হচ্ছিল। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে এসব ওষুধে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইথাইল অ্যালকোহল থাকলেও সেগুলি 'ওষুধ' হিসেবেই বাজারে সহজলভ্য ছিল। এবার সেই পথ কার্যত বন্ধ করল কেন্দ্র সরকার।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ড্রাগস রুলসের 'সিডিউল কে'-তে সংশোধন এনে জানিয়েছে, ১২ শতাংশের বেশি (ভলিউম বাই ভলিউম) ইথাইল অ্যালকোহলযুক্ত এবং ৩০ মিলিলিটারের বেশি পরিমাণের ওষুধ আর কোনও বিশেষ ছাড়ের আওতায় থাকবে না। এই ধরনের ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির জন্য বাধ্যতামূলক হবে লাইসেন্স এবং সেগুলি সিডিউল এইচ-১-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কেবলমাত্র চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনেই বিক্রি করা যাবে।
এতদিন কীভাবে নিয়মের ফাঁক গলে যাচ্ছিল?
এর আগে সিডিউল কে-র একটি নিয়ম অনুযায়ী, এলাচ, আদা বা কিছু নির্দিষ্ট ভেষজ উপাদানযুক্ত অ্যালকোহলভিত্তিক ওষুধ লাইসেন্স ও প্রেসক্রিপশনের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পেত। অভিযোগ, সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত কিছু টিংচার ও অ্যারোমেটিক প্রস্তুতি বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই ওষুধ নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগও আসে কেন্দ্রের কাছে।
ওষুধ যখন নেশা! ছবি: সংগৃহীত
কী বদলাচ্ছে?
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত এসব ওষুধ আর সাধারণ ওষুধের মতো বিক্রি করা যাবে না। উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ এবং খুচরো বিক্রির প্রতিটি ধাপে থাকবে কড়া নজরদারি। ফার্মেসিগুলিকেও প্রতিটি বিক্রির রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনে সহজেই নজরদারি চালানো যায়।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সরকারের মতে, এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা বজায় রাখা, কিন্তু সেগুলিকে যেন নেশার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সব ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধকে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমানে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি সিরাপে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ অ্যালকোহল রাখার অনুমতি রয়েছে। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত অন্যান্য ওষুধের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ন্ত্রণ চালু করা হচ্ছে।
প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর নয়। ছবি: সংগৃহীত
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে এমন একাধিক ওষুধের উপরও কেন্দ্র নজরদারি বাড়িয়েছে। প্রেসক্রিপশনভিত্তিক বিক্রি, কঠোর পর্যবেক্ষণ এবং বেআইনি সরবরাহ বন্ধে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের আশা, নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে ওষুধের নামে অ্যালকোহলের অপব্যবহার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।
