একজন ভুগেছিল অল্পবিস্তর। অন্যজনকে নিয়ে যমে-চিকিৎসকে টানাটানি। কোভিড আক্রান্ত হয়ে দুই ব্যক্তির অসুস্থতার ফারাকের নেপথ্যে জিনগত ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জিনগত ত্রুটি। এমনটাই মত চিকিৎসকদের।
শনিবার শহরে বসেছিল পূর্ব ভারতে প্রথম ইনবর্ন এররস অফ ইমিউনটি নিয়ে সম্মেলন। সম্মেলনে উপস্থিত ডা. প্রিয়ঙ্কর পাল, ডা. জিগনা ভাটিয়ারা জানালেন, সিংহভাগ অসুখের নেপথ্যে জিনের কারিকুরি। মনে করা হচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জিনগত ত্রুটির জন্যই কার কারও শরীরে ভয়ংকর ছাপ ফেলেছিল কোভিড। চিকিৎসকদের ধারণা, যাঁদের শরীরে কোভিড ভাইরাস ঢুকে, শোচনীয় অবস্থা করেছিল ত্রুটি ছিল তাদের ইমিউন জিনে। শরীর ভাইরাসকে চিনতেই দেরি করে ফেলেছিল অনেক। জিনগত ত্রুটির কারণে অনেকের শরীর এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করেছিল যা নষ্ট করে দিয়েছিল শরীরের প্রতিরোধী প্রোটিনকেই।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জন্ম থেকেই দেখা যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জিনগত ত্রুটি। সদ্যোজাতর শরীরে এই ধরনের অসুখকে সমষ্টিগতভাবে বলা হচ্ছে, ইনবর্ন এররস অফ ইমিউনিটি। কী তাঁর উপসর্গ? ডা. জিগনা ভাটিয়ার কথায়, ঘনঘন সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে শরীরে। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে সারলেও বার বার ফিরে আসছে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জন্ম থেকেই দেখা যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জিনগত ত্রুটি। সদ্যোজাতর শরীরে এই ধরনের অসুখকে সমষ্টিগতভাবে বলা হচ্ছে, ইনবর্ন এররস অফ ইমিউনিটি। কী তাঁর উপসর্গ? ডা. জিগনা ভাটিয়ার কথায়, ঘনঘন সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে শরীরে। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে সারলেও বার বার ফিরে আসছে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, "বিশেষ কিছু পরীক্ষা করতে হবে। রক্ত পরীক্ষায় যদি দেখা যায় নিউট্রোফিল খুব বেশি কিম্বা সিআরপি খুব বেশি সে ক্ষেত্রে সন্দেহ করা হয়। এ ছাড়াও রয়েছে লিম্ফোসাইট সাবসেট অ্যানালিসিস টেস্ট, জেনেটিক টেস্টের মতো কিছু অত্যাধুনিক পরীক্ষা।" সম্প্রতি এমন পরীক্ষাতেই শহর কলকাতায় ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে পাঁচ বছরের শিশুর শরীরে ধরা পড়ছে জিনগত ত্রুটি। টিবির উপসর্গ নিয়ে ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে ভর্তি হয়েছিল বিহারের বাসিন্দা পাঁচ বছরের শিশু।
ডা. প্রিয়ঙ্কর পাল জানিয়েছেন, উপসর্গ সম্পূর্ণ টিবির মতোই। বায়োপসিতে যে লক্ষণ দেখা যায় সেটাও টিবির। কিন্তু ব্যাকটিরিয়াম টিউবারকুলোসিসের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষমেশ বিশেষ পরীক্ষা করে দেখা যায় 'সিজিডি' ডিজিজে আক্রান্ত শিশুটি। 'নো কার্ডিয়া' নামে একধরনের ব্যাকটিরিয়া ঢুকেছে শরীরে। এর নেপথ্যে জিনগত ত্রুটি। প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিষয়ক সংগঠন ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর প্রাইমারি ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি (আইএসপিআইডি), এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন এইপিআইডি বা ফাউন্ডেশন ফর প্রাইমারি ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ডিজিজ শনিবার যৌথভাবে কলকাতায় আয়োজন করেছিল সম্মেলনের। সেখানেই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সদ্যোজাতর মধ্যে জিনঘটিত অসুখের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
