shono
Advertisement
Health tips

শরীরচর্চার মাঝেই অজ্ঞান তরুণ, মায়ের বুদ্ধিতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা! কীভাবে সতর্ক হবেন?

ওমের এই ঘটনা আমাদের দেখিয়ে দিল, ফিট থাকা জরুরি, কিন্তু সচেতন থাকা তার থেকেও বেশি জরুরি। শরীরের সংকেতকে অবহেলা নয়, গুরুত্ব দিন। কারণ, কখন থামতে হবে, তা জানাটাও ফিটনেসেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 03:47 PM Apr 24, 2026Updated: 03:47 PM Apr 24, 2026

নাগপুরের ২৩ বছরের তরুণ ওম ভোয়ারের ঘটনা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল- ফিটনেসের নেশা কখনও হয়ে উঠতে পারে বিপদের কারণ।

Advertisement

'অনেকবার হেরেছি, কিন্তু হার মানিনি। জিতবই'- ডেডলিফট প্র্যাকটিসের একটি ভিডিও পোস্ট করে এমনই লিখেছিলেন ওম। জিমে নিজের সীমা ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জীবনে নামে ঘোর অন্ধকার।

অতিরিক্ত নয়। ছবি: প্রতীকী

১০ এপ্রিল, দীর্ঘ সময় ধরে ওয়ার্কআউটের পর বাড়ি ফিরেই আচমকা অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে দেরি হয়নি তাঁর মা আরতি ভোয়ারের। পেশায় নার্স হওয়ায় তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ অসুস্থতা নয়, বরং স্ট্রোকের লক্ষণ, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ।

'গোল্ডেন আওয়ার', অর্থাৎ, প্রথম ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা- এই সময়টুকুই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এক মুহূর্ত দেরি না করে তিনি ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, ওমের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। দ্রুত মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি পদ্ধতিতে সেই ক্লট অপসারণ করা হয়। এই অত্যাধুনিক চিকিৎসার ফলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ফিরতে শুরু করে, বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

মায়ের সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণেই সুস্থ হয়ে ওঠে ওম। দ্রুত সাড়া দেয় তাঁর শরীর।  অবশেষে ২১ এপ্রিল তিনি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন, প্রায় অলৌকিক এক প্রত্যাবর্তন।

ছবি: প্রতীকী

এই ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। শরীরের সীমা না জেনে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যায়াম অনেক সময় মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।

হেমোরেজিক স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের রক্তনালী ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যা শরীরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। ফল হতে পারে পক্ষাঘাত, এমনকী প্রাণঘাতী জটিলতাও।

তবে সময়মতো চিকিৎসা পেলে এই ক্ষতি অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জমাট রক্ত বের করে দিলে রোগীকে নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।

ওমের এই ঘটনা আমাদের দেখিয়ে দিল, ফিট থাকা জরুরি, কিন্তু সচেতন থাকা তার থেকেও বেশি জরুরি। শরীরের সংকেতকে অবহেলা নয়, গুরুত্ব দিন। কারণ, কখন থামতে হবে, তা জানাটাও ফিটনেসেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement