পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের অ্যাকশনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা ও তার আশপাশের মোট ৮টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে তারা। তালিকায় রয়েছে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানা। সূত্রের খবর, বিধায়কের ভবানীপুর, জোকা, বেলঘড়িয়া ও দক্ষিণেশ্বরের বাড়িতে পৌঁছেছে ইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মদন মিত্রের বাড়িতে এই অভিযান। ইডি সূত্রে খবর, বিধায়কের বাড়ি থেকে একাধিক নথি ও ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে।
সাত সকালে কলকাতা শহরের দিকে দিকে হানা ইডির। স্ক্যানারে রয়েছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর একাধিক ঠিকানায় হানা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জানা গিয়েছে, বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে রয়েছেন বিধায়ক। সেখানে সকাল ৬টা থেকে চলছে তল্লাশি। বাড়ি ঘিরে ফেলেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সূত্রের খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও বেলেঘাটা, সন্তোষপুরের একটি ক্লাব, বেহালার একটি ঠিকানাতে হানা দিয়েছে ইডি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ অয়ন শীল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে রাজ্যের ৭টি পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই ৭টি পুরসভার মধ্যে রয়েছে কামারহাটি পুরসভাও। অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমে এই ৭টি পুরসভায় গ্রুপ ডি, টাইপিস্ট-সহ একাধিক পদে নিয়োগ করা হত। ওএমআর শিট ছাপানো, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা হত। অভিযোগ, এই সব নিচু তলার পুরকর্মী নিয়োগে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। কামারহাটি পুরসভায় এই দুর্নীতিতে বিধায়ক হিসেবে মদন মিত্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি। এই নিয়ে কামারহাটি পুরসভার এক আধিকারিকের বাড়িতেও কয়েকদিন আগে তল্লাশি চালানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোর পাশাপাশি এক ব্য়বসায়ীর দোকান জোর করে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে মদন মিত্রের বিরুদ্ধে। ওই দোকানটি মদনের দক্ষিণেশ্বরের আবাসনের নিচে অবস্থিত। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাঁকে ভয় দেখিয়ে জোর করে তাঁর দোকান জবরদখল করে রেখেছেন বিধায়ক।
