ডাম্বেল নয়, জিম নয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওয়ার্কআউটও নয়। দিনে মাত্র ৪ মিনিটের একটি ব্যায়াম করলেই নাকি এক সপ্তাহে ঝরে যাবে ৫ কেজি ওজন! সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল জাপানি ওয়ার্কআউট (Japanese 4 Minute Workout) ঘিরে এখন তুমুল চর্চা। কিন্তু এই দাবি কি আদৌ বাস্তবসম্মত?
ওজন কমানোর তাগিদে অনেকেই সহজ রাস্তা খোঁজেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে কাটানো, কঠিন ডায়েট মেনে চলা বা খাবারের তালিকা থেকে পছন্দের অনেক কিছু বাদ দেওয়া, সবটা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়। সেই জায়গায় যদি কেউ বলে, দিনে মাত্র ৪ মিনিট ব্যায়াম করলেই সাত দিনে ৫ কেজি ওজন কমবে, তাহলে তা যে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলবে, সেটাই স্বাভাবিক।
সম্প্রতি এমনই একটি জাপানি ওয়ার্কআউটের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র চার মিনিট এই বিশেষ রুটিন অনুসরণ করলেই দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। এমনকী ডাম্বেল বা জিমের সরঞ্জামেরও প্রয়োজন নেই। এক্স-এ ভিডিওটির ভিউ ৩০ লক্ষেরও বেশি, আর লাইক প্রায় ৬০ হাজার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, চার মিনিটের ব্যায়াম কি সত্যিই পাঁচ কেজি চর্বি ঝরিয়ে দিতে পারে?
ভাইরাল ভিডিওর একটি মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত
৭ দিনে ৫ কেজি, কতটা সম্ভব?
প্রথমেই বলা দরকার, সাত দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর দাবি কি আদৌ বাস্তবসম্মত? শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এত অল্প সময়ে এতটা ওজন কমা একপ্রকার অসম্ভব।
ওজন কমা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর। প্রতিদিন কত ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করছে, কতটা শারীরিক পরিশ্রম করছেন, বিপাকের হার কেমন, বয়স, ঘুম, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং শরীরে কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, সবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওজনের দ্রুত পরিবর্তন মানেই শরীরের চর্বি দ্রুত কমে যাওয়া নয়। শরীরে জমা জলের পরিমাণের পরিবর্তনেও কয়েক দিনে ওজন অনেকটা কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, ওজনের সংখ্যা কমা আর শরীরের চর্বি কমা এক জিনিস নয়।
তাহলে চার মিনিটের ব্যায়াম কি একেবারেই অর্থহীন?
তা নয়। বরং এই জায়গাটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের কাছে শরীরচর্চা শুরু করার সবচেয়ে বড় বাধা হল সময়ের অভাব এবং অনীহা। দিনে চার মিনিটের একটি সহজ রুটিন অন্তত সেই বাধাটা কাটাতে সাহায্য করতে পারে। যাঁরা দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাটান, তাঁদের ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের শারীরিক কসরত সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকার চেয়ে ভালো।
চার মিনিট দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, ওজন তোলা বা অন্য ধরনের শারীরিক কার্যকলাপ যোগ করা যেতে পারে। মূল কথা হল, একদিনের ঝড়ের মতো ওয়ার্কআউট নয়, নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাসটাই আসল।
ভাইরাল ভিডিও দেখে নয়, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী। ছবি: সংগৃহীত
ভাইরাল ভিডিও মানেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নয়
সোশাল মিডিয়ায় কোনও ব্যায়ামের ভিডিও লক্ষ লক্ষ ভিউ পেলেই তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি দাবি সত্যি হয়ে যায় না। বিশেষ করে দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে আরও সতর্ক হওয়া দরকার। ‘৭ দিনে ৫ কেজি’, ‘কোনও ডায়েট নয়’, ‘কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই’, এমন দাবি শুনলে প্রথমেই প্রশ্ন করতে হবে, কীভাবে এত দ্রুত ওজন কমছে?
শুধু বেশি ব্যায়াম করলেই ওজন কমবে, এমন নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খাবার, শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুম এবং সামগ্রিক জীবনযাপন একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। আবার দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অত্যন্ত কম খাওয়া বা অতিরিক্ত ব্যায়াম করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৪ মিনিট দিয়ে শুরু করুন, কিন্তু ৫ কেজির স্বপ্নে নয়
এই ভাইরাল ওয়ার্কআউটের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত দিক হতে পারে এর সময় কম হওয়া। চার মিনিট দিয়ে কেউ যদি নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন, সেটি অবশ্যই ইতিবাচক।
তবে চার মিনিটকে সাত দিনে পাঁচ কেজি ওজন কমানোর ম্যাজিক ফর্মুলা ভাবলে ভুল হবে। ওজন কমানোর লক্ষ্য হওয়া উচিত ধীরে-সুস্থে, নিরাপদে এবং এমন পদ্ধতি, যা দীর্ঘসময় মেনে চলা সম্ভব। কারণ শরীরের সঙ্গে লড়াই করে দ্রুত ওজন কমানো যায়, কিন্তু সুস্থভাবে ওজন কমাতে হলে শরীরকে সময় দিতে হয়।
