ধূমপান করেন না তাই মুখের ক্যানসার (Mouth Cancer) হতেই পারে না, এমনটা ভাবছেন কি? আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কিন্তু জানাচ্ছে, ধূমপান ছাড়াও রয়ে যাচ্ছে তেমন সম্ভাবনা!
বিশদে বলা যাক। দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান বা তামাক সেবন করলে মুখের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই দীর্ঘদিন পর্যন্ত মুখের ক্যানসারকে কেবল পুরুষদের রোগ বলেই মনে করা হত। কিন্তু ছবিটা এতটা সরল নয়। ধূমপান না করলেও মুখের ক্যানসার হতে পারে, বিশেষত যারা তামাক-সুপারি খান, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সুপারি যে ক্যানসার-সৃষ্টিকারী উপাদান, তা প্রমাণিত।
অনেকেই মনে করেন, সিগারেট না খেলে মুখের ক্যানসারের আশঙ্কা নেই। কিন্তু জর্দা, খৈনি, গুটখা, সুপারিভরা পান— সবেরই ফলাফল এক হতে পারে। বিশেষ করে তামাক বা সুপারি দীর্ঘ সময় মুখের ভেতরে রেখে দেওয়ার ফলে মাড়ি, জিভ ও গালের ভেতরের আবরণ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মুখের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত বা জ্বালাভাব কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় কোনও দাঁত ভেঙে গিয়ে ধারাল হয়ে যায়। ফলে মুখের ভিতরের কোনও অংশে ঘষা খেতে থাকে।
কৃত্রিম দাঁত ঠিকমতো না বসলেও একই সমস্যা হয়। অনেকে আবার ঠিকমতো দাঁত-জিভ পরিষ্কার করেন না। মুখের ভিতরের প্রদাহকে অবহেলা করেন। এসব থেকেই মুখ ও জিভের ক্যানসার হতে পারে।
মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ আপাত দৃষ্টিতে খুবই সাধারণ মনে হতে পারে। যেমন—
• মুখের কোনও ঘা দীর্ঘদিনেও না শুকানো
• জিভ, মাড়ি বা গালের ভেতরে সাদা বা লাল দাগ
• মুখের ভেতরে কোনও অস্বাভাবিক গুটি বা শক্ত দানার মতো হয়ে থাকা
• অকারণে রক্তপাত বা ব্যথা
• জিভ বা মুখের কোনও অংশ অবশ লাগা
• চিবোতে বা গিলতে সমস্যা
• জিভ বা চোয়াল নাড়াতে অসুবিধা
এমন কিছু হচ্ছে মানেই যে ক্যানসার, তা নয়। তবে শরীরের কোনও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাই ফেলে রাখা উচিত নয়। যদি অন্য কোনও কারণেও এই সমস্ত হয়ে থাকে, তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তা সারিয়ে তুলতে হবে।
কারণ মুখের ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দেরী হবে, তত তা সারার সম্ভাবনা কমতে থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘আমি ধূমপান করি না, তাই আমার মুখের ক্যানসার হবে না’—এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়।
