shono
Advertisement

Breaking News

Ayurvedic Dhumapana Therapy

ধূমপান করেও নাকি উপকার! শেহনাজের ভিডিওয় হইচই, জানুন আসল রহস্য

‘মেডিকেটেড স্মোকিং’ কী? সিগারেটের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 05:44 PM Aug 31, 2026Updated: 06:07 PM Aug 31, 2026

ধোঁয়া টানছেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শেহনাজ ট্রেজারি। তবে হাতে নেই সিগারেট, নেই তামাকও। কেরলের একটি আয়ুর্বেদিক রিট্রিটে গিয়ে তিনি চিকিৎসা নিলেন এমন এক প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতির যেখানে নির্দিষ্ট ভেষজ থেকে তৈরি ধোঁয়া ব্যবহার করা হয়। নাম ধূমপান বা ধূমপান চিকিৎসা (Dhumapana)। শেহনাজের সেই অভিজ্ঞতার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আয়ুর্বেদের এই অচেনা পদ্ধতি নিয়ে।

Advertisement

সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওয় শেহনাজকে বলতে শোনা যায়, ‘ন্যাজাল স্মোকিং আপনাকে বেশ শান্ত করতে পারে। ওয়েলকাম টু মেডিকেটেড স্মোকিং।’

এই পদ্ধতি তাঁর জন্য কীভাবে উপকারী, তা জানতে রিট্রিটের চিকিৎসকের কাছেও প্রশ্ন করেন তিনি। চিকিৎসক জানান, নির্দিষ্ট ভেষজের ধোঁয়া নাকের জমাটভাব বা নাক বন্ধ হওয়া উপশমে বিশেষভাবে কার্যকর, ইন্দ্রিয়কে সতেজ রাখে এবং মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। শেহনাজও জানান, এই অভিজ্ঞতা তাঁর বেশ ভালো লেগেছে।

পরে সোশাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে শেহনাজ জানান, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে ধূমপান করতে হবে, তা তিনি নিজেও ভাবেননি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই পদ্ধতি সিগারেটের মতো ধোঁয়া টানা নয়।

শেহনাজ ট্রেজারি। ছবি: সংগৃহীত

আয়ুর্বেদিক ধূমপান কী?
নামটি শুনে সিগারেটের কথা মনে হলেও আয়ুর্বেদিক ধূমপানের ধারণাটি ভিন্ন। আয়ুর্বেদে ধূমপান বলতে বোঝানো হয় নির্দিষ্ট ওষুধ পুড়িয়ে তৈরি ধোঁয়া নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে গ্রহণ করা। প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতিতে মাথা, নাক ও গলার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যায় এর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় তামাক ব্যবহার করা হয় না। বরং চিকিৎসার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ভেষজ উপাদান দিয়ে বিশেষ বস্তু তৈরি করা হয়। হলুদ, নিম, ঘি-সহ নানা উপাদান ব্যবহারের উল্লেখ আয়ুর্বেদে রয়েছে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে তৈরি ধোঁয়া নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গ্রহণ করতে হয়। আয়ুর্বেদে এর উদ্দেশ্য হিসেবে নাক ও গলার অতিরিক্ত কফ বা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করা, নাক বন্ধে এবং মাথা-গলার কিছু অস্বস্তি উপশমের কথা বলা হয়েছে। কিছু আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাপদ্ধতিতে নাকের চিকিৎসার পরও ধূমপানের উল্লেখ রয়েছে।

সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া নয়। ছবি: সংগৃহীত

সিগারেটের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। সিগারেটের ধোঁয়ায় তামাকের বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। আয়ুর্বেদিক ধূমপানে চিকিৎসার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট ভেষজ উপাদান ব্যবহার করা হয়।

তবে ‘ভেষজ’ বা ‘প্রাকৃতিক’ শব্দ থাকলেই কোনও ধোঁয়া শরীরের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ধোঁয়া শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলে কাশি, জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। কোন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কীভাবে তা গ্রহণ করা হবে, তার উপরও ঝুঁকি নির্ভর করতে পারে।

নিজেরাই কি শুরু করা যায়?
একেবারেই নয়। সোশাল মিডিয়ায় কোনও ভিডিও দেখে এই পদ্ধতি নিজের মতো করে অনুসরণ করা উচিত নয়। আয়ুর্বেদিক ধূমপান চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে হলে প্রশিক্ষিত আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

বিশেষ করে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা থাকলে ধোঁয়া গ্রহণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।

ধোঁয়াতেই রোগমুক্তি। ছবি: সংগৃহীত

শেহনাজ ট্রেজারির ভিডিও তাই প্রাচীন একটি আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে ঠিকই, কিন্তু ‘মেডিকেটেড স্মোকিং’ আর সিগারেটের ধূমপান এক নয়, আবার এটিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্তও ভাবা যাবে না। চিকিৎসার নামে কোনও নতুন পদ্ধতি চেষ্টা করার আগে তার প্রয়োজন, উপকারিতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement