shono
Advertisement
Eating Together

খাবার টেবিলে সঙ্গীর অভাব? একসঙ্গে খাওয়াতেও লুকিয়ে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি, একায় বিপদ কোথায়?

খাবারের টেবিলে শুধু খাবারই ভাগ হয় না, ভাগ হয় গল্প, হাসি, সময় এবং সম্পর্কও।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 05:36 PM Aug 28, 2026Updated: 05:36 PM Aug 28, 2026

খাবার একা না খেয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস যে মন ভালো রাখে, তা অনেকেরই জানা। কিন্তু গবেষণা বলছে, এর প্রভাব আরও গভীর। নিয়মিত একসঙ্গে খাওয়া অবসাদের ঝুঁকি কমাতে পারে, খাবারের আনন্দ বাড়াতে পারে, এমনকী দীর্ঘসময় মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতেও সাহায্য করতে পারে।

Advertisement

শুধু পেট ভরানো নয়
অন্যদের সঙ্গে বসে খাওয়ার এই অভ্যাসকে বলা হয় কমেনসালিটি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জান-এমানুয়েল দ্য নেভের মতে, একসঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া মানুষের মধ্যে বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। আর সেই সামাজিক যোগাযোগের প্রভাব পড়ে মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও।

চিনে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি ৯,৩৬১ জন মহিলাকে নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, খাবারের টেবিলে কতজনের সঙ্গে বসছেন, তার সঙ্গে অবসাদের ঝুঁকির স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। বয়স, আর্থিক অবস্থা, শারীরিক স্বাস্থ্য এবং একা থাকার মতো বিষয়গুলি বিবেচনায় নেওয়ার পরেও এই সম্পর্ক বজায় ছিল।

জাপানের একটি গবেষণায় দেখা যায়, পরিবারের সঙ্গে থাকলেও যাঁরা নিয়মিত একা খান, ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সে তাঁদের অবসাদের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের সঙ্গে খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়। ছবি: সংগৃহীত

স্বাদও বাড়ে
সঙ্গ শুধু মন ভালো করে না, খাবারের আনন্দও বাড়াতে পারে। পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এরিকা বুথবির একাধিক পরীক্ষায় দেখেছেন, অন্যের সঙ্গে বসে চকোলেট খেলে সেটি একা খাওয়ার তুলনায় বেশি সুস্বাদু বলে মনে হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের।

একসঙ্গে খাওয়ার সময় শরীরে এন্ডোরফিনের মতো আনন্দদায়ক রাসায়নিকের কার্যকলাপও বাড়তে পারে। ফলে খাবারের সঙ্গে জুড়ে যায় আনন্দ ও সামাজিক যোগাযোগ।

মস্তিষ্কের উপরও প্রভাব
২০২৫ সালের একটি জাপানি গবেষণায় নিয়মিত একা খাওয়া মানুষের মস্তিষ্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে তুলনামূলক কম আয়তন দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল স্মৃতি ও জ্ঞানীয় ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হিপোক্যাম্পাস ও মেডিয়াল টেম্পোরাল লোব।

গবেষকদের মতে, একা খাওয়ার সঙ্গে কম পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা এর একটি কারণ হতে পারে। তবে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। খাবারের টেবিলের কথাবার্তা, মানসিক আনন্দ এবং সামাজিক সংযোগ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

সবাই একসঙ্গে, ভালো থাকে মানসিক স্বাস্থ্য। ছবি: সংগৃহীত

শুরুটা হোক আজই
একসঙ্গে খাওয়ার জন্য বড় আয়োজনের দরকার নেই। পরিবারের সঙ্গে দিনে অন্তত একটি খাবার একসঙ্গে খাওয়া, বন্ধুকে দুপুরের খাবারে ডাকা বা পরিচিত কারও সঙ্গে চা-জলখাবার ভাগ করে নেওয়াই যথেষ্ট।

কারণ, খাবারের টেবিলে শুধু খাবারই ভাগ হয় না, ভাগ হয় গল্প, হাসি, সময় এবং সম্পর্কও। আর সেই সম্পর্কই হতে পারে ভালো থাকার সহজ অথচ শক্তিশালী হাতিয়ার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement