shono
Advertisement
anti-tobacco

সিগারেটে বুঁদ স্কুল পড়ুয়ারা! নেশা কাটাতে বাংলার স্কুলে ‘তামাক বিরোধী’ স্পেশাল ক্লাস

প্রতিটি স্কুলে ৬ মাসে একবার ১০০ নম্বরের স্ব-মূল্যায়ন করতে হবে। যে স্কুলগুলি ৯০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাবে, তারাই পাবে ‘তামাকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’-এর সার্টিফিকেট।
Published By: Sayani SenPosted: 08:00 AM Jul 23, 2026Updated: 11:55 PM Jul 22, 2026

যুবক-যুবতীদের উপর হওয়া সাম্প্রতিক সমীক্ষা আশঙ্কাজনক। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ৮.৫ শতাংশ ছাত্র ছাত্রী সিগারেট অথবা গুটখার নেশায় ডুবে। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সেই তামাকের নেশা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ‌্য সরকার। নতুন স্ট‌্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর জারি করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি জেলার মুখ‌্য স্বাস্থ‌্য আধিকারিকের কাছে। যে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি স্কুলে হবে তামাকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি। যদি কেউ তামাকের নেশায় আসক্ত হয় তাদের আচরণগত কাউন্সেলিং হবে। প্রয়োজনে পাঠানো হবে উচ্চতর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। নয়া এসওপি অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলে ৬ মাসে একবার ১০০ নম্বরের স্ব-মূল্যায়ন করতে হবে। যে স্কুলগুলি ৯০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাবে, তারাই পাবে ‘তামাকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’-এর সার্টিফিকেট।

Advertisement

স্কুলগুলোকে তামাকমুক্ত করতে প্রতিটি ব্লকে তৈরি হচ্ছে বিশেষ টিম। যে টিমে থাকবেন আরবিএসকে মেডিক‌্যাল অফিসার, স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্ট, অন্বেষা কাউন্সিলর, ব্লক হেলথ ম‌্যানেজার। ব্লকের স্কুলে স্কুলে পরিদর্শন করবেন তারা। রাজ্যে অকালমৃত‌্যুর নেপথ্যে তামাকের ব‌্যবহার। সিগারেট-খৈনিতে আসক্তরা জানিয়েছেন কুড়ি বছর বয়সের আগেই তারা নেশার কবলে পড়েছেন। সেখানে রাজ‌্য সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক তামাকের নেশা ছাড়াতে অনেকটাই সাহায‌্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ‌্য আধিকারিক জানিয়েছেন, নেশামুক্ত শিক্ষাঙ্গন বা টিওএফইআই (টোবাকো ফ্রি এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন) কর্মসূচির উদ্দেশ‌্য, সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তামাকমুক্ত করা। তামাকবিরোধী যে কটপা আইন (২০০৩) রয়েছে তাকে আরও কড়াভাবে বলবৎ করা।

নয়া কর্মসূচিতে কি কি শেখানো হবে ছাত্রছাত্রীদের? তামাকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি, কটপা আইন সম্পর্কে অবগত করা হবে। আগামী ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে কুইজ, পোস্টার, বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে স্কুলে। অন্বেষা কাউন্সিলরদের দায়িত্ব ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি, অভিভাবকদেরও সচেতনতা করা। পেরেন্ট টিচার মিটিং-এ তামাকের ক্ষতি নিয়ে আলোচনা। প্রতিটি স্কুলে তৈরি করতে হবে টোবাকো মনিটরিং কমিটি। তারা খতিয়ে দেখবেন, স্কুলের ১০০ গজের মধ্যে তামাক বিক্রি হচ্ছে কিনা। তামাকের বিক্রি ঠেকাতে স্কুলে অভিভাবক-স্থানীয় পঞ্চায়েত, যুব সংগঠন, পুলিশ থানার মধ্যে সমন্বয়সাধন।

স্বাস্থ‌্যদপ্তর সূত্রে খবর, তামাক মুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শংসাপত্র গেলে বিদ‌্যালয়কে মানতেই হবে কিছু শর্ত। স্কুল ক‌্যাম্পাসে চোখে পড়ার মতো জায়গায় টাঙাতে হবে ‘টোবাকো ফ্রি এরিয়া’ বোর্ড। স্কুলের মেইন গেটের মাথায় থাকতে হবে তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব‌্যানার। স্কুল চত্বরে সিগারেট, বিড়ি টুকরো, গুটখা, খৈনি প‌্যাকেট, থুতুর দাগের কোনও চিহ্ন থাকলে হবে না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement