মাছে-ভাতে বাঙালির দুপুরের পাতে এক টুকরো মাছ না হলে চলে? ইলিশের সর্ষে ঝাল হোক বা রুই-পাবদার কালিয়া, মাছের পিস পাতে পড়লেই বাঙালির 'সর্বং সুখম্'। কিন্তু এই রূপোলি শস্যেরই একটা মস্ত বড় খারাপ দিকও রয়েছে। তা হল এর সূক্ষ্ম কাঁটা। একটু অসাবধান হলেই গেরো! গলায় কাঁটা বিঁধে এক্কেবারে নাজেহাল দশা। তখন শুরু হয় ছটফটানি। চড়চড় করে বাড়ে আতঙ্ক। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে হেঁশেলের সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই মুশকিল আসান হতে পারে। কলা বা শুকনো ভাতের চটজলদি চেনা দাওয়াই ছাড়াও রয়েছে আরও কিছু দারুণ টোটকা। রইল কাঁটা সরানোর ৩ অব্যর্থ উপায়।
ছবি: সংগৃহীত
কোল্ড ড্রিঙ্কসের ম্যাজিক: গলায় কাঁটা ফুটলে এক গ্লাস কোল্ড ড্রিঙ্কস বা কোকাকোলা খেয়ে দেখতে পারেন। এটি বেশ চমৎকার কাজ করে। কোল্ড ড্রিঙ্কসে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস গলার আটকে থাকা নরম কাঁটাটিকে দ্রুত নরম করে দেয়। ফলে কাঁটাটি আর আটকে থাকতে পারে না, সহজেই গলা থেকে তরতরিয়ে নেমে আসে।
লেবুর রসের অম্লতা: পাতিলেবুর রসে থাকে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড কাঁটা নরম করতে অত্যন্ত কার্যকরী। গলায় কাঁটা ফুটলে একটা গোটা পাতিলেবুর রসের সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে নিন। এবার জল না মিশিয়ে সেই রস অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে খেতে থাকুন। লেবুর রসের তীব্র অম্লতা কাঁটার ধারালো ভাব এক নিমেষে কমিয়ে দেবে। এবং সেই কাঁটা গলিয়ে নামিয়ে দেয়।
তেল ও ভিনিগারের যুগলবন্দি: রান্নাঘরে অলিভ অয়েল থাকলে এক চামচ খেয়ে নিন। তেল গলাকে পিচ্ছিল করে তোলে। ফলে আটকে থাকা কাঁটা পিছলে সোজা পেটে চলে যায়। যদি বাড়িতে অলিভ অয়েল না থাকে, তবে বিকল্প ব্যবস্থাও আছে। এক গ্লাস জলে দু-চামচ ভিনিগার মিশিয়ে খেয়ে নিন। ভিনিগারও লেবুর রসের মতোই কাঁটা গলিয়ে দিতে সমান সাহায্য করে।
ছবি: সংগৃহীত
কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে?
ছোটখাটো এবং সাধারণ কাঁটা এই ঘরোয়া পদ্ধতিতেই সহজে নেমে যায়। তবে কাঁটা ফোটার পর যদি দীর্ঘক্ষণ তীব্র যন্ত্রণা হতে থাকে, কথা বলতে সমস্যা হয়, থুতুর সঙ্গে রক্ত বেরোয় কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি করবেন না। ঘরোয়া উপায়ের ভরসায় না থেকে অবিলম্বে একজন নাক-কান-গলা (ENT) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান।
