বাঙালির খাওয়া কি আর কাঁচা লঙ্কা ছাড়া সম্পূর্ণ হয়? সবজির তরকারিতে কাঁচা লঙ্কা বাটা হোক, বা মাছের তরকারিতে চেরা কাঁচা লঙ্কা, অথবা এমনিই পাতের পাতে গোটা কাঁচা লঙ্কা—যদি দোকানে গিয়ে কিনতে না হয়, চাইলেই তুলে আনা যায় বাড়ির বাগান থেকে, তাহলে কি মজাটাই না হবে! অতি সহজে বাড়ির এক চিলতে বারান্দায় টবে লঙ্কার গাছ বসাতে পারেন। কেমন করে তার যত্ন নেবেন? পদ্ধতি একেবারে সহজ (Gardening Tips For Chilli Plant)!
ধাপ ১: সঠিক মাটির মিশ্রণ তৈরি করুন
লঙ্কা গাছ হালকা, ঝুরঝুরে মাটিতে সবচেয়ে ভালো বৃদ্ধি পায়। আদর্শ মাটি তৈরি করতে বাগানের মাটির সঙ্গে কম্পোস্ট, গোবর সার এবং অল্প পরিমাণ বালি মিশিয়ে নিন। এতে মাটি উর্বর থাকবে ও বাতাস চলাচল করবে।
ধাপ ২: উপযুক্ত টব নির্বাচন করুন
মাঝারি আকারের মাটির টব সবচেয়ে ভালো। টবের নিচে অবশ্যই জল বের হওয়ার ছিদ্র থাকতে হবে, যাতে অতিরিক্ত জল জমে শিকড় পচে না যায়। তৈরি করা মাটির মিশ্রণ টবে ভরে, হালকা জল দিয়ে ভিজিয়ে নিন।
ধাপ ৩: ভালো মানের বীজ/চারা ব্যবহার করুন
নার্সারি থেকে ভালো লঙ্কার চারা কিনতে পারেন অথবা বাড়ির কাঁচা লঙ্কা থেকে বীজ সংগ্রহ করতে পারেন। বীজ মাটির প্রায় ২–৩ ইঞ্চি গভীরে বপন করুন এবং তার উপর পাতলা করে মাটি ছড়িয়ে দিন।
ধাপ ৪: সঠিকভাবে জল দিন
বীজ বপনের পর মাটি আর্দ্র রাখুন, তবে অতিরিক্ত জল দেবেন না। গরমকালে সকালে-সন্ধ্যায় জল দেওয়া ভালো, শীতকালে মাটির শুকনোভাব দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিন।
ধাপ ৫: পর্যাপ্ত সূর্যালোক দিন
লঙ্কা গাছের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৫–৬ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলো প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালে দুপুরের তীব্র রোদ থেকে গাছকে কিছুটা সুরক্ষা দিন। শীতকালে গাছকে বেশি সময় রোদে রাখলে ভালো বৃদ্ধি হবে।
ধাপ ৬: নিয়মিত সার প্রয়োগ করুন
ভালো ফলনের জন্য প্রতি ১৫–২০ দিন অন্তর জৈব সার ব্যবহার করুন। যেমন—কম্পোস্ট, গোবর সার বা ভার্মি কম্পোস্ট। শীতকালে সরষের খোল সার ব্যবহার করলেও গাছের পুষ্টি বাড়ে।
ধাপ ৭: পোকামাকড় ও রোগ থেকে সুরক্ষা
বর্ষাকালে লঙ্কা গাছে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিম তেলের দ্রবণ স্প্রে করতে পারেন। তবে পাতায় সাদা গুঁড়োর মতো দাগ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন, যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে।
সাধারণত ৩০–৪০ দিনের মধ্যে লঙ্কা গাছে ছোট ছোট ফুল আসতে শুরু করে। পরে সেই ফুল থেকেই লঙ্কা তৈরি হয়। সঠিক যত্ন নিলে একটি গাছ ৩–৪ মাস পর্যন্ত ফল দিতে পারে। তবে একটি টবে একাধিক লঙ্কা গাছ লাগাবেন না। আর বীজ মাটির খুব গভীরে পুঁতবেন না।
