ঘরের ভিতর কোথাও সাপ লুকিয়ে নেই তো? প্রতি বছর বর্ষা এলেই এই চিন্তা তাড়িয়ে বেড়ায় গৃহস্থকে। সাবধানতা অবলম্বন করার পরেও ভয় থেকে যায়। বিশেষ করে বাড়ির আশেপাশে যদি ঝোপজঙ্গল থাকে, তবে কোনওভাবেই এ আশঙ্কা এড়ানো যায় না।
অনেকেই বলেন, সাপেদের গা থেকে এক বিশেষ ধরনের গন্ধ বেরোয়। ভালো করে শুঁকে দেখলে নাকি কেবল গন্ধতেই বোঝা যায় সাপের উপস্থিতি। বিজ্ঞান যদিও এমন কোনও নির্দিষ্ট গন্ধের কথা বলে না। অর্থাৎ, একটিই বিশেষ গন্ধ যে সাপের উপস্থিতির জানান দেবে, তেমন বলা যায় না। বেশিরভাগ সাপ স্বাভাবিক অবস্থায় এমন কোনও গন্ধ ছাড়ে না, যা মানুষ সহজে বুঝতে পারে।
তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে গন্ধ পাওয়া যেতে পারে। বাড়ির কোনও অংশে যদি দীর্ঘ সময় সাপ বাসা বেঁধে থাকে, তবে সেখানে এক ধরনের কটু গন্ধ তৈরি হতে পারে। আবার, সাপ যদি নিজেকে কোণঠাসা অনুভব করে, তবে এক ধরনের তরল তাদের দেহের গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হতে পারে। কেমন গন্ধ? জেনে নেওয়া যাক।
- মাস্কি গন্ধ: অনেক সাপ ভয় পেলে বা আত্মরক্ষার জন্য লেজের গোড়ার বিশেষ গ্রন্থি থেকে এক ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত তরল নিঃসরণ করে। এই গন্ধকে অনেকেই কটু, তীব্র বা ঝাঁজালো বলে বর্ণনা করেন।
- পচা ডিম বা সবজির মতো গন্ধ: কারও মতে, এই প্রতিরক্ষামূলক নিঃসরণের গন্ধ পচা ডিম বা পচা বাঁধাকপির মতো।
- শসার মতো গন্ধ: গ্রামাঞ্চলে একটি প্রচলিত ধারণা হল, বাড়ির কোনও অংশে সাপ থাকলে কাঁচা শসার গন্ধ পাওয়া যায়।
তবে সব সাপ গন্ধ ছাড়ে না। গন্ধ নাকে এলেও তা যে সাপ থেকেই আসছে, সবক্ষেত্রে তা বোঝার উপায় নেই। সাপ খুব কাছাকাছি থাকলেও অনেক সময় কোনও গন্ধই পাওয়া যায় না। তাই কেবল গন্ধের ভিত্তিতে সাপ আছে কি নেই, তার বিচার সম্ভব নয়। বরং খেয়াল রাখতে হবে বাগানে কোথাও সাপের খোলস পড়ে রয়েছে কি না। বাড়িতে পোষ্য থাকলে, তারা বাগানের যে কোনও অংশে তাকিয়ে চুপ করে রয়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এমন বিপদ এড়াতে অবশ্যই বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।
