রাত পেরোলেই স্বাধীনতা দিবস। এমন দিনে বাড়ির খুদেরা আবদার করে, বাড়ি সাজাতে হবে তেরঙ্গায়। বড়রাও প্রায়শই উৎসাহের সঙ্গে হাত লাগান এই কাজে। তবে স্বাধীনতা দিবসের সাজসজ্জায় শুধু সৌন্দর্য নয়, জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও পরিবেশ দূষণের কথা মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে বাড়ির বাইরে কোনও সজ্জার ব্যবস্থা করলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন (Independence Day)।
১। জাতীয় পতাকা দিয়ে বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে আগে মনে রাখতে হবে তার সম্মানের কথা। পতাকা যেন কখনও উলটোভাবে না লাগানো হয়, নজর রাখতে হবে সেদিকে। পতাকার গেরুয়া অংশ সর্বদা থাকবে উপরে এবং সবুজ থাকবে নীচে। পতাকা মাটিতে পড়ে থাকা, পায়ের নীচে চলে যাওয়া কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কাম্য নয়। এমন জায়গায় পতাকা বা পতাকার প্রতিরূপ রাখুন, যেখানে সেটি সহজে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
২। সাজসজ্জার জন্য পতাকা ব্যবহার করলে ব্যবহারের পর সেটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ বা নিষ্পত্তি করার বিষয়টিও মাথায় রাখুন।
৩। স্বাধীনতা দিবসের আগে বাজারে প্লাস্টিকের ছোট পতাকা, বেলুন ও নানা ধরনের সজ্জাদ্রব্য সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু ফেলে দেওয়ার পর তা পরিবেশের ক্ষতি করে। তাই প্লাস্টিকের বদলে কাগজ, কাপড়, জুট বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ বেছে নিতে পারেন। রঙিন কাগজ দিয়ে তেরঙ্গা ফুল, ফেস্টুন বা ওয়াল হ্যাঙ্গিং বানালে খরচও কমবে, সাজেও আসবে ব্যক্তিগত ছোঁয়া।
৪। বাড়িতে খুদে সদস্য থাকলে উদযাপনের পাশাপাশি তার সুরক্ষার দিকেও সচেতন হতে হবে। ছোট পিন, বৈদ্যুতিক তার, কাচের ডেকোরেশন কিংবা ধারালো কোনও সামগ্রী শিশুদের নাগালের মধ্যে রাখবেন না। মোমবাতি বা প্রদীপ ব্যবহার করলে অবশ্যই নজর রাখুন এবং জ্বালানো অবস্থায় কখনও ফেলে রাখবেন না।
৫। হুটপাট বৃষ্টি আসতে পারে, তাই বাড়ির বাইরে সাজানোর ক্ষেত্রে আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। ভেজা জায়গায় খোলা বৈদ্যুতিক তার বা নিম্নমানের লাইট ব্যবহার করবেন না। বিদ্যুতের সংযোগ ও এক্সটেনশন বোর্ডও জল থেকে দূরে রাখুন।
৬। অনেকেই এ’দিন পতাকার তিন রঙে রাঙানো খাবার প্রস্তুত করেন বাড়িতে। রান্নায় শৈল্পিক ছোঁয়া আনবেন অবশ্যই, তবে তার জন্য স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপোষ না করাই ভালো। কৃত্রিম ফুড কালার ব্যবহারের বদলে প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করুন। গেরুয়া রঙের জন্য টোম্যাটো, গাজর প্রভৃতি ও সবুজ রঙের জন্য শাকপাতা ও সবুজ সবজি ব্যবহার করুন।
স্বাধীনতা দিবস কেবল উৎসব নয়, দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অবকাশও বটে। তাই আনন্দ-উদযাপনের ক্ষেত্রে সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পালন করা ভুললে চলবে না।
