রক্ষাবন্ধন। ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে আজীবন ভালোবাসা ও অটুট সম্পর্কের অঙ্গীকার করে বোন। অনেকে আবার ভ্রাতৃস্থানীয় বন্ধুর হাতেও রাখি পরান প্রায়শই। কিন্তু পরানো হয়ে গেলে পুরনো রাখিটি কী করেন? তুলে রাখেন? নাকি ফেলে দেন আবর্জনার সঙ্গে (Disposing old rakhi)? এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়ম রয়েছে কি?
পুরনো রাখি কীভাবে রাখা বা সরিয়ে ফেলা উচিত, তা নিয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য কোনও একক নিয়ম নেই। বরং বিভিন্ন পরিবার ও অঞ্চলে কিছু প্রচলিত রীতি রয়েছে। বেশিরভাগ হিন্দু পরিবারেই রাখিকে কেবল হাতে বাঁধার সুতো হয়, গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সজ্জার উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রার্থনা, ভাই-বোনের পারস্পরিক আশীর্বাদ ও ভালোবাসা।
অনেক পরিবারে আবার রক্ষাবন্ধনের দিনেই রাখি খুলে ফেলা হয় না। কয়েক দিন হাতে রাখার পর তবেই সেটি খোলা হয়। তাও ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় না, বরং ঠাকুরঘরের কোনও অংশে যত্নে রেখে দেওয়া হয়। কেউ কেউ পুরনো রাখি কিছুদিন পরিষ্কার, নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দেন। পরে পরিবারের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সেটি সংরক্ষণ বা বিসর্জন দেন।
কিন্তু আপনি যদি ব্যবহৃত রাখি নিয়ে কী করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তবে রইল কয়েকটা সহজ সমাধান।
- অনেক সময়েই রাখির উপরের অংশে ধর্মীয় মোটিফ আঁকা থাকে। যেমন পুজোর ঘট, স্বস্তিক চিহ্ন অথবা গণেশ। এমন রাখি পরা হয়ে গেলেও অতি যত্নে তুলে রাখাই কাম্য।
- অনেক সময় আবার রাখি তৈরিতে ব্যবহার হয় প্লাস্টিকের ফুল বা অন্য জৈব অবিয়োজ্য উপাদান। এমন জিনিস ফেলে দিলে তা মাটিতে মেশে না। বরং প্রাকৃতিক দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আবর্জনায় ফেলে দেওয়ার বদলে তা যদি কোনওভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সে চেষ্টা করাই ভালো।
- এই সব ভাবনা পিছনে ফেলে দিলেও যা একেবারেই ভুললে চলে না, তা হল, রাখি আদতে ভাইকে দেওয়া বোন বা দিদির ভালোবাসার প্রতীক। তাই তা যত পুরনোই হয়ে যাক না কেন, অর্থহীন হয়ে যায় না। ব্যবহৃত রাখি তাই যত্নে তুলে রাখাই উচিত, তা সে ঠাকুরঘরে হোক বা অন্য কোনওখানে।
