বিজ্ঞানের খাতায় যা স্রেফ মহাজাগতিক ঘটনা, চিরন্তন বাঙালি গেরস্থালিতে তা-ই আবার আচার-অনুষ্ঠানের অঙ্গ। আগামী ১২ আগস্ট চলতি বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ। গ্রহণ শুরু হবে ১২ আগস্ট রাত ৯টা ৪ মিনিটে। শেষ হবে ১৩ আগস্ট ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে। যদিও এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান নয়, তবু ভারতীয় পরিবারে গ্রহণের সূতক কাল ও তার প্রভাব নিয়ে চর্চার শেষ নেই। দৈনন্দিন সংসার সামলানোর পাশাপাশি মহাজাগতিক এই ক্ষণে গৃহস্থের করণীয় কী, তা অবশ্যই জেনে নেওয়া জরুরি।
প্রতীকী ছবি
(১) শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণ চলাকালীন নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে। তাই গৃহিণীদের প্রথম নজর থাকে রান্নাঘরের দিকে। গ্রহণের সময় নতুন করে রান্না করা বা ভারী আহার গ্রহণ এড়িয়ে চলাই প্রথা। কিন্তু শিশু, প্রবীণ বা অসুস্থদের তো আর উপোস করিয়ে রাখা যায় না! তাঁদের জন্য ছাড় রয়েছে। তবে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই পানীয় জল, দুধ এবং রান্না করা খাবারে কয়েকটি করে তুলসী পাতা ফেলে রাখার নিয়ম প্রচলিত। বিশ্বাস, তুলসী পাতা খাবারকে বিশুদ্ধ ও সতেজ রাখে।
(২) গ্রহণের সময়ে গৃহপরিবেশ শান্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। ধারালো বস্তু যেমন কাঁচি, ব্লেড, বঁটি বা সূঁচ ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন প্রবীণরা। গৃহস্থের মঙ্গলকামে এই সময়ে এক জায়গায় বসে ইষ্টদেবের নাম স্মরণ, গায়ত্রী মন্ত্র বা ‘ওঁ সূর্যায় নমঃ’ জপ করা যেতে পারে। সংসারের সমৃদ্ধির জন্য এটি বেশ শুভ বলে ধরা হয়।
প্রতীকী ছবি
(৩) প্রতিটি বাঙালি পরিবারেই হবু মায়েদের নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ থাকে। জ্যোতিষ মতে, গর্ভবতী নারীদের এই সময়ে ঘরের ভেতরে থাকা শ্রেয়। সরাসরি সূর্যরশ্মি বা গ্রহণ স্পর্শ থেকে দূরে থাকাই মঙ্গল। ঘরের কাজ বা সেলাইয়ের মতো কাজ এড়িয়ে হবু সন্তান ও নিজের মানসিক শান্তির জন্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ বা শান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
(৪) গ্রহণ কেটে গেলেই শুরু হয় ঘরদোর পরিষ্কার ও শুদ্ধিকরণের পালা। গঙ্গাজল মিশ্রিত জলে স্নান সেরে নেওয়া গেরস্থালির পুরনো রীতি। এর পর দুস্থদের চাল, গম, তিল বা বস্ত্র দান করলে সংসারে শুভ শক্তি ফিরে আসে বলে বিশ্বাস। অহেতুক আতঙ্ক সরিয়ে নিয়মগুলো মানলেই গৃহকোণে বজায় থাকবে শান্তি ও কল্যাণ।
