ডিপ ফ্রিজারে বরফ জমে প্রায় হিমবাহ হওয়ার দশা! ভিতরে রাখা মাছ-মাংস জমে পাথর! হু হু করে বাড়ছে বিদ্যুতের বিল। কী করা ভাঙা যাবে বরফের চাঙড়? গৃহস্থ হয়তো বেপরোয়া হয়ে ধারাল ছুড়ি-কাঁচি ঠুকে ভাঙার চেষ্টা করতে পারেন। অথবা পরিচিতদের পরামর্শ মেনে ফ্রিজারের ভিতর গরম জল ঢেলে দেখতে পারেন অল্প অল্প করে।
কিন্তু জানেন কি, এতে ভালো হওয়ার বদলে বিপদই বাড়ে। বরফ গলার সঙ্গে কমতে থাকে ফ্রিজের মেয়াদকাল। হয়তো বারবার এমন পদ্ধতি কাজে লাগালে দ্রুতই মিস্ত্রির দ্বারস্থ হতে তবে আপনাকে (Freezer Defrost)!
ছুরি বা অন্য কোনও ধরনের ধারাল জিনিস দিয়েই খোঁচাখুচি করবেন না বরফে।
কী করবেন তবে? গবেষকরা জানাচ্ছেন, ফ্রিজারের কয়েলে অতিরিক্ত বরফ জমলে ঠান্ডা করার দক্ষতা ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর ফলে ফ্রিজারের মূল যন্ত্রাংশে চাপ পড়ে। খাবার ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগে এবং অজান্তেই বিদ্যুতের বিলও বাড়তে থাকে।
কেন ছুরি বা গরম জল ব্যবহার করা বিপজ্জনক?
অ্যাপ্লায়েন্স মেরামতি সংস্থাগুলির মতে, ধারাল কোনও যন্ত্র দিয়ে বরফ তুলতে গেলে ফ্রিজারের ভিতরের লাইনারে ফুটো হয়ে যেতে পারে অথবা কুল্যান্ট লাইনে আঘাত লাগতে পারে। সে জিনিস মেরামতির কাজ মানেই বড়সড় খরচের ধাক্কা।
ফুটন্ত জলও নিরাপদ নয়। বরফ জমা দেওয়ালে সরাসরি গরম জল ঢাললে হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্লাস্টিকের তাক বেঁকে যেতে পারে, প্যানেলে ফাটল ধরতে পারে বা দরজার সিল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সিল নষ্ট হলে বাইরের উষ্ণ বাতাস ভিতরে ঢুকতে থাকবে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার বরফ জমে যাবে।
তাহলে ফ্রিজার ডিফ্রস্ট করা যাবে কোন পদ্ধতিতে?
অ্যাপ্লায়েন্স গাইড অনুযায়ী, ফ্রিজারটি খোলা রাখুন। প্লাগ খুলে রাখুন। সামনে একটি ছোট ফ্যান চালিয়ে রাখলে বরফ দ্রুত গলবে। এছাড়াও ফ্রিজারের ভিতরে ঈষদুষ্ণ জল ভর্তি দুটি বাটি বসিয়ে রাখুন। খেয়াল রাখুন, জল যেন ফুটন্ত না হয় কোনওভাবেই। এবং কেবলমাত্র বসিয়েই রাখতে হবে সেই বাটি, বরফের গায়ে জল ঢাললে হবে না। এই অবস্থায় কয়েক মিনিটের জন্য দরজা বন্ধ রাখুন। গরম জলের বাষ্প ফ্রিজারের দেওয়ালে জমে থাকা বরফ নরম করে দেবে।
বাটিভর্তি গরম জল ফ্রিজারে বসিয়ে, দরজা টেনে দিন।
কেবলমাত্র এককালীন বরফ পরিষ্কার যথেষ্ট নয়। আবার যাতে বরফ না জমে, সেদিকেও নজর দিন। ফ্রিজার পরিষ্কার করার পর কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলুন। প্রতিবার ফ্রিজারের দরজা ভালোভাবে বন্ধ হচ্ছে কি-না খেয়াল করুন। দরজার রাবার সিল বা গ্যাসকেট ঢিলে হয়ে গেলে তা ঠিক করুন। দরজা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় খোলা রাখবেন না। এসবের কোনও পদ্ধতিই কাজে না দিলে অভিজ্ঞ মিস্ত্রির পরামর্শ নিন।
