মাঝরাতে হঠাৎ খটকা। পিছনের দরজায় কে র্যা? শহরজুড়ে যখন সিঁধেলদের উপদ্রব বাড়ছে, তখন গেরস্তের রাতের ঘুম উড়তে বাধ্য। অথচ সাধের আবাসে দামি সিসিটিভি ক্যামেরা বা আধুনিক অ্যালার্ম লাগানোর ঝক্কি অনেক। পকেটের রেস্ত কুলিয়ে উঠবে না। তা হলে উপায়? মুশকিল আসান আপনার রান্নাঘরেই। ফ্রিজে রাখা খাবার মোড়ার অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলই এবার রুখে দেবে অনাহূত অতিথিকে। এই ফেলে দেওয়া জিনিসই এখন ঘর গেরস্থালির সেরা ‘দারোয়ান’।
ছবি: সংগৃহীত
পদ্ধতিটি ভারী অদ্ভুত, কিন্তু দারুণ কার্যকরী। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঘরের পিছনের দরজা, বাগানের গেট বা গলির দিকের হাতলে সামান্য অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ভালো করে জড়িয়ে দিন। ব্যস, আপনার ঘরোয়া সিকিউরিটি সিস্টেম তৈরি। অপরাধবিজ্ঞান বলছে, চোরেরা চুরির আগে ঝুঁকি মেপে দেখে। দরজার হাতলে চকচকে ফয়েল দেখলেই তাদের মনে প্রথম ধাক্কাটা লাগে। রুপোলি ফয়েলের প্রতিফলনে অবচেতনে তৈরি হয় নজরদারির ভয়। তাদের মনে হয়, বাড়ির মালিক অতিরিক্ত সচেতন। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপই অর্ধেক অপরাধ রুখে দিতে সক্ষম।
ছবি: সংগৃহীত
কেউ যদি অজান্তে ওই হাতল ঘোরানোর চেষ্টা করে, তবে ফয়েলে টান পড়বেই। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ছিঁড়ে যাওয়ার বা কুঁচকে যাওয়ার নির্দিষ্ট শব্দ আছে। নিঝুম রাতে সেই আওয়াজই আপনার ঘরের নিজস্ব অ্যালার্ম। ফয়েল সামান্যতম ছিঁড়ে গেলে বা তুবড়ে গেলেই সকালে আপনি বুঝে যাবেন, কেউ হানা দিয়েছিল। বিশেষ করে ভাড়া বাড়িতে যেখানে দরজায় নতুন তালা বা ক্যামেরা লাগানোর আইনি জটিলতা থাকে, সেখানে এই ট্রিক এক্কেবারে মোক্ষম।
তবে মনে রাখবেন, এটি কিন্তু মূল তালার বিকল্প নয়। ভালো খিল আর মজবুত তালার সঙ্গে এই ফয়েল জুড়লে নিরাপত্তা বাড়ে কয়েক গুণ। খরচ মাত্র কয়েক টাকা। কিন্তু কাজ লাখ টাকার। আজ রাতেই একবার ট্রাইম করবেন নাকি?
