সুমন করাতি, হুগলি: টোটোর দৌরাত্ম্যে নাজেহাল হুগলির একাধিক এলাকার বাসিন্দা। কোন্নগর পুরসভা, কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ও নবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতে দিনে দিনে টোটোর দাপটে বাড়ছে যানজট। সমস্যায় নাকাল অফিসযাত্রী, স্কুল পড়ুয়া থেকে পথচারীরা। কানাইপুরে স্বয়ং পরিবহণ মন্ত্রীর বাড়ির রাস্তাতেও বাড়ছে যানজট। সমস্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। এদিকে কিছু টোটো বেআইনিভাবে চলছে তা কার্যত মেনে নিয়েছেন কোন্নগর পুরসভা চেয়ারম্যান স্বপন দাস।

কোন্নগর পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের রাস্তায় প্রায় সাড়ে চার হাজার টোটো চলছে। কিন্তু বৈধ কাগজ রয়েছে মাত্র সাড়ে তিনশো টোটোর। বাকি টোটো রাস্তায় কে বা কারা, কাঁর নির্দেশে নামিয়েছেন তা নিয়ে কোনও তথ্য নেই পুরভবনে। পুরপ্রধান স্বপন দাস বলেন, "টোটোর কাগজপত্র চেয়ে সাড়ে তিনশো কাগজ পেয়েছি। জেলাশাসকের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোন্নগর এলাকায় টোটো চলছে প্রায় সাড়ে চার হাজার। এই অবৈধ টোটো কাঁর অনুমতিতে রাস্তায় নামছে তা জানা যাচ্ছে না। টোটো অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরসভা কোনও বেআইনি টোটো নামানোর পক্ষে নয়। আগামীতে সরকারের নির্দেশ মতো পুরসভা ব্যবস্থা নেবে।"
কোন্নগর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, "যত দিন যাচ্ছে রাস্তায় টোটো তত বাড়ছে। আগামী দিনে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে রাস্তা দিয়ে আর সাধারণ মানুষ চলতে পারবে না।" তাঁর অভিযোগ, শাসকদলের নেতাদের একাংশের মদতেই টোটো দৌরাত্ম্য বেড়েছে। স্থানীয় এক স্কুল ছাত্রী পিয়ালি বিশ্বাস বলেন, "টোটো কাকুরা যেখানে, সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। তাতেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।"
নিত্যদিনের এই যানজট লেগে রয়েছে কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেও। উপপ্রধান ভবেশ ঘোষ অবশ্য বলেন, "কানাইপুর পঞ্চায়েত টোটো অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন টোটোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। স্টেশন চত্বর এলাকা ঘিঞ্জি হওয়ায় যানজটের সমস্যা আছে।"
একই সমস্যা রয়েছে নবগ্রাম পঞ্চায়েতে। হাজারের উপর টোটো চলে এখানে। তবে কাগজ রয়েছে অনেক কম টোটোর। তবে উপপ্রধান অলক পালের কথায়, "পঞ্চায়েতের তরফ থেকে টোটোর কাগজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন নতুন কোনও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।" তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয় থেকেও অনেক অনুমতি দেওয়া হয়। সেটা পঞ্চায়েত জানে না। এই বেআইনি টোটো নিয়ন্ত্রণে তাঁরা পুলিশের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন কিন্তু সেটা তাঁরা পাননি বলেও দাবি।
নবগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক অফিস যাত্রী চন্দন বিশ্বাসের কথায়, "কোন্নগর স্টেশন চত্বর এলাকা দিন দিন যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। টোটো চালকরা কোনও নিয়ম মানেন না। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন ও পুলিশ সব দেখেও যেন কিছুই করতে পারছে না।" স্থানীয়দের অভিযোগ তাহলে কী সর্ষের মধ্যে মধ্যেই ভূত? যাঁরা কোনও নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রাস্তায় টোটো নামাতে অভয় দিচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বেআইনি টোটো রুখতে পারছেন না পুরসভা, পঞ্চায়েত আধিকারিকরা। তাহলে এই সমস্যার সমাধান করবে কে?