সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০০৬ মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণে দোষী সাব্যস্তদের প্রত্যেককেই মুক্তি দিল বম্বে হাই কোর্ট। ঘটনার ৯ বছর পর বিস্ফোরণে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ১২ জনকে। পাঁচজনকে ফাঁসির সাজা শোনায় নিম্ন আদালত। কিন্তু ১২ জনের প্রত্যেককেই সোমবার বেকসুর খালাস করে দিল বম্বে হাই কোর্ট। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে বিস্ফোরণে ১৮৯ জনের মৃত্যু হয়।
প্রেশার কুকার বিস্ফোরণ বলেই পরিচিত ২০০৬ সালের মুম্বই লোকাল বিস্ফোরণ। ভয়াবহ ঘটনার ৯ বছর পর ২০১৫ সালে ট্রায়াল কোর্টে ১২ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকিদের যাবজ্জীবনের সাজা শোনানো হয়। সেই রায়ের বিরোধিতা করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ১২ অভিযুক্ত। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি অনিল কিলোর এবং বিচারপতি শ্যাম চন্দোকের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মুম্বই বিস্ফোরণের প্রত্যেক অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করা হল।
দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পেশ করা যায়নি। এই অভিযুক্তরাই যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেটা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন। তাই ১২জনের দোষী প্রমাণিত হওয়ার রায় খারিজ করা হল। আদালতের মতে, কী ধরনের বোমা ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটেছিল সেটাও জানা যায়নি। তদন্তে পাওয়া প্রমাণাদির সঙ্গেও বিস্ফোরণের যোগ নেই। ফলে ১২ অভিযুক্ত বেনিফিট অফ ডাউট দেওয়া হয়েছে। জেল থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন ১২জন।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ১১ জুলাই মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে মুম্বইয়ের একাধিক লোকাল ট্রেনে বিস্ফোরণ ঘটে। মূলত প্রেশার কুকারের মধ্যেই বোমা রাখা হয়েছিল বলে খবর। সন্ধে ৬টা ২৪ থেকে ৬টা৩৫ মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণগুলি ঘটে। সবমিলিয়ে ১৮৯ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু প্রমাণের অভাবে সকল অভিযুক্তই ছাড় পেয়ে গেল সোমবার। যদিও আদালতের এই রায়ের তীব্র নিন্দা করেছেন শিব সেনা সাংসদ মিলিন্দ দেওরা। মুম্বইকর হিসাবে এই রায় মানতে পারছেন না তিনি।
