তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনে বিরল রাজনৈতিক সমীকরণ। একই পরিবারের তিনজন জয়ী হলেন তিন ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে। দেশের রাজনীতিতে এহেন বিরল দৃশ্য দেখা গেল লটারি কিং স্যান্তিয়াগো মার্টিনের পরিবারে। ইনি সেই লটারি কিং, যিনি ২০২৪ সালে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি চাঁদা দিয়েছিলেন তৃণমূলকে। যা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছিল। ২০২৬-এর তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন মার্টিনের স্ত্রী (এআইডিএমকে) ও জামাই (টিভিকে)। অন্যদিকে, পুদুচেরি নির্বাচনে জেএলকে দলের টিকিটে প্রার্থী হন মার্টিনের পুত্র তিনজনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
২০২৬-এ ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তিন রাজ্যেই বিরাট পালাবদল দেখেছে দেশ। যেগুলি হল, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও তামিলনাড়ু। তবে রংয়ের বদল বিশেষ প্রভাব ফেলেনি তামিলনাড়ুর লটারি কিং স্যান্তিয়াগো মার্টিনের পরিবারে। এই পরিবার থেকে ৩ সদস্য এবার প্রার্থী হয়েছিলে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির নির্বাচনে। এআইডিএমকে থেকে তামিলনাড়ুর লালগুড়ি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন স্যান্তিয়াগো মার্টিনের স্ত্রী লিমা রোজ মার্টিন। তামিলনাড়ুর ভিল্লিবাক্কম কেন্দ্র থেকে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকের টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন মার্টিনের জামাই আদভ অর্জুন। এবং লটারি কিংয়ের পুত্র জোস চার্লস মার্টিন পুদুচেরির কামরাজ নগর থেকে প্রার্থী হন এলজেকের টিকিটে। বলাবাহুল্য বিরাট ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছেন তিনজনই।
ইনি সেই লটারি কিং, যিনি ২০২৪ সালে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি চাঁদা দিয়েছিলেন তৃণমূলকে। যা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছিল।
তবে একই পরিবারে ভিন্ন দল থেকে তিনজন জয়ী হয়েও এই জয় কিন্তু একেবারেই সহজ ছিল না। মার্টিনের স্ত্রী যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন সেই লালগুড়ি আসন গত ২০ বছর ধরে ছিল ছিল ডিএমকের দুর্জয় ঘাঁটি। এবার আইজেকে দল ছেড়ে এআইএডিএমকে-তে যোগ দিয়ে দলের মহিলা শাখার যুগ্ম সচিব হন লিমা। নির্বাচনে দলের তরফে টিকিট পেয়ে এই কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। মার্টিনের জামাই আদভ আবার টিভিকে দলের সাধারণ সম্পাদক। ১৭৩০২ ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। পুদুচেরির এলজেকে দল চার্লস মার্টিনের নিজের দল কামরাজ নগর থেকে ১০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর ব্যবসায়ী স্যান্তিয়াগো মার্টিন প্রথমবার নজরে এসেছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নির্বাচনী বন্ডের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর। স্যান্টিয়াগোর মূল ব্যবসা লটারি। তিনি লটারি কিং নামেও পরিচিত। তামিলনাড়ু থেকে শুরু করে গোটা ভারতে ছড়িয়ে তাঁর ব্যবসা। ২০২৪ সালে দেশের একাধিক রাজনৈতিক দলকে মোট ১,৩৬৮ কোটি টাকার নির্বাচনী বন্ড কিনেছিল তাঁর সংস্থা। যার মধ্যে তৃণমূলকে অন্তত ৫৪০ কোটি টাকা দিয়েছিল মার্টিনের সংস্থা ‘ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেস’। মোট অনুদানের ৪০ শতাংশই যায় ঘাসফুল শিবিরে।
