অবশেষে শান্তি ও উন্নয়নের পথে মণিপুর! মঙ্গলবার অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণ করলেন নিষিদ্ধ কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি- তাইবাঙ্গানবার (কেসিপি) ৪৬ জন জঙ্গি। এদের মধ্যে চার জন মহিলা সদস্য। সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে আত্মসমর্পণের সময় সরকারি কর্মীদের কাছে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেন ওই নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সদস্যরা।
মণিপুর স্বরাষ্ট্র দপ্তরের 'ঘরে ফেরা উৎসব' অনুষ্ঠিত হল ইম্ফলের মণিপুর রাইফেল প্যারেড গ্রাউন্ডে। গত ১২ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী য়ুমনাম খেমচাঁদ সিং ঘোষণা করেন, রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগামী পনেরো দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে। অস্ত্র ফেরাতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় বলা হয়, বন্দুকের নলে শান্তি ফিরবে না রাজ্যে। সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে আত্মসমর্পণকারীদের সরকার সাহায্য করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন খেমচাঁদ সিং।
এদিন খেমচাঁদ আরও জানান, ৪৬ জন কেসিপি জঙ্গির আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াটি ‘সংশোধিত আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি, ২০১৮’-এর আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। এই নীতির অধীনে আত্মসমর্পণকারী প্রত্যেক ক্যাডারকে ৩৬ মাস ধরে মাসিক ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়াও ৪ লক্ষ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট অনুদান প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান, আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে জীবিকারও ব্যবস্থা করবে সরকার। এর জন্য তাঁদের দক্ষতা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানেও সরকার সহায়তা করবে।
মঙ্গলবার সরকার এবং কেসিপি-তাইবাংগানবা গোষ্ঠীর মধ্যে আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গোষ্ঠীর পক্ষে কেসিপি-টি-র চেয়ারম্যান হাওবিজাম দিলিপ ওরফে তাইবাংগানবা এবং রাজ্য সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্র বিভাগের যুগ্ম সচিব ডএম ভেটো সিং স্বাক্ষর করেন। বিশ্লেষকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলে অশান্তির মধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আত্মসমর্পণ ও শান্তিচুক্তি মণিপুরের ভবিষ্য়তের জন্য আশার কথা।
